নড়াইলে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় হাজারো দর্শকের ঢল
নড়াইল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৩৬
নড়াইলে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার বিছালী ইউনিয়নের চাকই গ্রামে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতা দেখতে হাজারো মানুষের ঢল নামে। ঘোড়দৌড়ের আয়োজন করেছেন বিছালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিমায়েত হুসাইন ফারুক।
বাংলা পৌষ মাসের শেষ দিনে চাকই গ্রামবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতা উৎসবমুখর পরিবেশে উপস্থিত সবার দৃষ্টি কাড়ে। সকাল থেকেই হাজার হাজার নারী-পুরুষ ও বিভিন্ন বয়সী শিশু মাঠে জড়ো হতে থাকেন।
ঘোড়ার দৌড় ও সওয়ারিদের রণকৌশল উপভোগ করতে মাঠের চারপাশে দাঁড়িয়ে ও বসে প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন দর্শনার্থীরা। খেলা শুরু হলে দর্শকদের মুহুর্মুহু করতালি ও উচ্ছ্বাসে মাঠজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আনন্দ। এ যেন চিরচেনা গ্রামবাংলার মিলনমেলা। এ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় মোট ১২টি ঘোড়া অংশ নেয়।
বিছালী গ্রামের রেজাউল ইসলাম জসিম বলেন, কালের বিবর্তনে গ্রামবাংলার অনেক ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তির পথে। একসময় গ্রামবাংলার অন্যতম ঐতিহ্য ছিল ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা, যা এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। তবে নড়াইলের বিছালী ইউনিয়নের চাকই এলাকায় এখনও প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা ও পৌষমেলা উদযাপন কমিটির সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার পাশাপাশি তিন দিনব্যাপী পৌষমেলার আয়োজন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জারিগান এবং আগামীকাল শুক্রবার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে। গ্রামীণ ঐতিহ্য রক্ষা, বিনোদন ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে এ আয়োজনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
বিছালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, মানুষকে বিনোদন দেওয়া এবং গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও খেলাধুলা সংরক্ষণের লক্ষ্যেই প্রতিবছর চাকই এলাকায় এই আয়োজন করা হয়।
ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা আয়োজক কমিটির সদস্য মোরাদ হোসেন শেখ বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন বয়সী প্রতিযোগীরা অংশ নিয়েছেন। এ বছর নারী, পুরুষ ও শিশুদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
যশোরের অভয়নগর থেকে ঘোড়দৌড় দেখতে আসা মুহিম বলেন, তিনি প্রতিবছর এই দিনের জন্য অপেক্ষা করেন। এ প্রতিযোগিতা হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে মনে করিয়ে দেয় এবং দেখতে তার ভীষণ ভালো লাগে।
কৃপা বিশ্বাস/আইএইচ

