Logo

সারাদেশ

রসের ঘ্রাণে মাতোয়ারা সোনারগাঁ

Icon

সজীব হোসেন, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)

প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০৬

রসের ঘ্রাণে মাতোয়ারা সোনারগাঁ

ছবি : বাংলাদেশের খবর

শীতের আগমনেই গ্রামবাংলায় বাড়তে থাকে খেজুর রসের কদর। বিশুদ্ধ ও টাটকা রসের খোঁজে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ভিড় জমাচ্ছেন রসপ্রেমীরা। বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হামছাদী এলাকার একটি খেজুর বাগান ঘিরে তৈরি হয়েছে কৌতূহল। এ বাগানের রস বিক্রি করে সাড়া ফেলেছেন গাছি শহিদ মোল্লা।

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা ৪৬ বছর বয়সী শহিদ মোল্লা দীর্ঘ ৭-৮ বছর ধরে মৌসুমি ভিত্তিতে খেজুর রসের ব্যবসা করছেন। বিভিন্ন জেলা ঘুরে তিনি খেজুর বাগান লিজ নিয়ে রস সংগ্রহ ও বিক্রি করেন। চলতি মৌসুমে তিনি সোনারগাঁয়ের হামছাদী এলাকায় ১০ শতাংশ জমির একটি খেজুর বাগান স্থানীয় তিন যুবক রাকিব, রোমান ও নোমানের সঙ্গে যৌথভাবে ৫০ হাজার টাকায় মৌসুমি চুক্তিতে লিজ নিয়েছেন। ওই বাগানে রয়েছে ২৭টি খেজুর গাছ।

প্রতিদিন ভোর, সকাল ও রাত—দুই দফায় গাছ থেকে রস সংগ্রহ করা হয়। এসব গাছ থেকে দৈনিক গড়ে ৬০ থেকে ৬৫ লিটার খেজুর রস পাওয়া যাচ্ছে। প্রতি লিটার রস ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি হাঁড়ি ঢেকে রাখা হয়েছে, যাতে বাদুড়সহ কোনো প্রাণী রসে প্রবেশ করতে না পারে।

ভোরের দিকেই বাগানে গিয়ে দেখা যায়, রস সংগ্রহের সময় ক্রেতাদের ভিড়। অনেকেই মোটরসাইকেলে করে এসে সরাসরি গাছ থেকে নামানো রস কিনে নিচ্ছেন।

মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকার বাসিন্দা নাইমুল আলম বলেন, ‘এখন খাঁটি খেজুর রস পাওয়া খুব কঠিন। এখানে চোখের সামনেই রস নামানো হয়, তাই নিশ্চিন্তে কিনতে পারছি। স্বাদও অসাধারণ।’

তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় অনেকেই খালি হাতে ফিরছেন। রায়েরবাগ এলাকা থেকে আসা রাকিবুল বলেন, ‘দেরি হয়ে যাওয়ায় আজ রস পাইনি। তবে সুযোগ পেলে আবার আসব।’

গাছি শহিদ মোল্লা জানান, চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ টাকার রস বিক্রি হয়েছে। মৌসুম শেষে আরও এক লাখ টাকার মতো বিক্রি হওয়ার আশা করছেন তিনি। তবে গাছের সংখ্যা কম হওয়ায় সবার চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান।

তিনি আরও বলেন, ‘খেজুর রসের ব্যবসা মাত্র তিন মাসের। পুরো বছর এই সময়টার অপেক্ষায় থাকতে হয়।’

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাইদ তারেক বলেন, ‘আমরা খেজুর চাষি ও গাছিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করছি। প্রণোদনা সীমিত হলেও পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।’

এআরএস

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর