‘নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে’ ওসমানী হাসপাতালের ইন্টার্নরা ডিউটিতে ফিরবেন না
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:১৫
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাতে মারামারির ঘটনায় এখনো হাসপাতালটির ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করছেন।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বেলা সোয়া ২টায় পর্যন্ত হাসপাতালে তারা ডিউটি বন্ধ রেখেছেন।
তাদের দাবি, ‘হামলাকারীদের’ বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে তারা ডিউটিতে ফিরবেন না।
এদিকে, মারামারির ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীসহ ৩ স্বজনকে রাতেই আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন- সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানার খৈতর গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে শিমুল আহমদ (৩৫), একই গ্রামের শিমুল আহমদের স্ত্রী নাজিরা সিদ্দিকা (৩২) এবং ছাতক থানাধীন দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা জাবেদ মিয়া (৩০)।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওসমানী হাসপাতালের চারতলার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে মারামারির ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই হাসপাতালের শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা কর্মবিরতিতে রয়েছেন। শনিবার দুপুরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে প্রশাসনের বৈঠক হলেও তারা এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি।
জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে হাসপাতালের চারতলার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এক রোগীর স্বজনের সঙ্গে দায়িত্বরত ইন্টার্ন নারী চিকিৎসকের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ওই স্বজন মারমুখী হয়ে ওঠেন। তখন দুপক্ষে মারামারি এবং জিনিসপত্র ভাঙচুর করা হয়।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবি, দায়িত্বরত চিকিৎসক সেবা দিতে হলে কিছু প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। কিন্তু রোগীর স্বজনরা সেই নিয়ম না মেনে সরাসরি ইন্টার্ন চিকিৎসকের কাছে দ্রুত সেবা চান। ইন্টার্ন চিকিৎসক নিয়ম মানার কথা বললে রোগীর স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালান।
তবে রোগীর স্বজনদের দাবি, দায়িত্বরত চিকিৎসক সেবা দিতে গড়িমসি ও অবহেলা করছিলেন। ফলে তারা প্রতিবাদ করলে হাসপাতালের অন্যরা তাদের মারপিট করেন। এতে কয়েকজন আহত হন এবং দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ জানায়, হামলার খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার একটি দল সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ১ নারীসহ তিনজনকে আটক করা হয়। আহতদের মধ্যে ১ নারী ও ১ পুরুষকে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্য পুরুষকে কোতোয়ালি থানায় রাখা হয়েছে।
শুক্রবার রাতেই এক বিবৃতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানান, মধ্যরাতে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্বরত একজন নারী শিক্ষানবিশ চিকিৎসকের ওপর ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটেছে। একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে, বিশেষ করে একজন নারী চিকিৎসকের ওপর এ ধরনের হামলা চরম লজ্জাজনক ও উদ্বেগজনক। তারা দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা হাসপাতালগুলোতে ইন্টার্ন ও জুনিয়র চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
তারা বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা এ হামলার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতিতে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল জাকির জানান, পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। একই সঙ্গে হামলার ঘটনার পরপরই নারীসহ ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ওসমানী হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে তিনজনকে আটক করেছে। আমরা যাচাই-বাছাই করে মামলা দায়ের করব।
এদিকে, দুপুর ১টার দিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে হাসপাতাল প্রশাসনের বৈঠক হয়। প্রশাসন কর্মবিরতি প্রত্যাহারের আহ্বান জানালে ইন্টার্নরা তা প্রত্যাখ্যান করে জানায়, ‘হামলাকারীদের’ বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে তারা ডিউটিতে ফিরবেন না।
বিষয়টি বাংলাদেশের খবর নিশ্চিত করেছেন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ইন্টার্ন চিকিৎসক মো. মিজানুর রহমান।
মো. রেজাউল হক ডালিম/এমবি

