Logo

সারাদেশ

পর্যটনে নতুন সম্ভাবনা তারুয়া দ্বীপ

Icon

এম ফাহিম, চরফ্যাসন (ভোলা)

প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৩০

পর্যটনে নতুন সম্ভাবনা তারুয়া দ্বীপ

ছবি : বাংলাদেশের খবর

বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে প্রায় চার দশক আগে জেগে ওঠা ভোলার তারুয়া দ্বীপ প্রকৃতির এক নিখুঁত সৃষ্টি। সবুজ বনভূমি, সোনালি সৈকত, বালুর ঝলকানি ও লাল কাঁকড়ার বিচরণের অপূর্ব সমাহারে ভরা এই দ্বীপটি দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করার বিশাল সম্ভাবনা ধারণ করে আছে।

ভোলা জেলা সদর থেকে প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার সড়কপথ ও ১৫ কিলোমিটার নদীপথ পাড়ি দিতে হয় তারুয়ায় পৌঁছাতে। তবে দীর্ঘ যাত্রাপথের ক্লান্তি ভোলায় দ্বীপের মোহনীয় দৃশ্য। চারপাশে নীল জলরাশি, সবুজের আচ্ছাদন এবং সাগরের গর্জন প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক স্বর্গীয় অনুভূতি তৈরি করে।

প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ এ সমুদ্র সৈকতের একপাশে বঙ্গোপসাগর, অন্যপাশে বিস্তীর্ণ চারণভূমি যা ম্যানগ্রোভ বনে গিয়ে মিশেছে। দ্বীপটিতে হরিণ, বন্য মহিষ, বানর, লাল কাঁকড়াসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর বসবাস রয়েছে। শীতকালে অতিথি পাখিদের কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪০-৪৫ বছর আগে বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠে এই দ্বীপ। একসময় স্থানীয় মৎস্যজীবীদের জালে প্রচুর ‘তারুয়া’ নামের মাছ উঠতো। ধারণা করা হয়, এ থেকেই দ্বীপটির নামকরণ হয়েছে তারুয়া।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ওয়াটার অ্যাডভেঞ্চার, ক্যাম্পিং সুবিধা ও পরিবেশবান্ধব রিসোর্ট গড়ে তুলতে পারলে তারুয়া দ্বীপ কক্সবাজার বা কুয়াকাটার মতো আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। তবে এর জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন।

চরফ্যাসন বন কর্মকর্তা সালাম হাওলাদার বলেন, ‘তারুয়া বিচের সৌন্দর্য ও পাখির অভয়ারণ্য রক্ষায় পর্যটকদের সচেতন থাকতে হবে। ম্যানগ্রোভ বনে আতশবাজি ফোটানো বা রাতে আগুন জ্বালানো নিষিদ্ধ।’ তিনি জানান, বন্যপ্রাণী শিকার রোধ ও পরিবেশ রক্ষায় বন বিভাগের আটটি রেঞ্জ থেকে টহল জোরদার করা হয়েছে।

বর্তমানে দ্বীপটিতে স্থায়ী বসতি তেমন গড়ে না উঠলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পর্যটকের সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়েছে। সড়কপথে সরাসরি যোগাযোগ ও সি-ট্রাক পরিষেবা চালু হলে ভ্রমণ আরো সহজ হবে বলে মনে করেন আগতরা।

প্রকৃতির অমূল্য এই রত্নকে পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় করে গড়ে তুলতে পারলে এটি বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

এআরএস

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

ভ্রমণ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর