স্ত্রী-সন্তানকে শেষবারের মতো দেখলেন কারাবন্দি ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম
যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৩
বাগেরহাটে ৯ মাসের সন্তানকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার পর নিজে ‘আত্মহত্যাকারী’ কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর মরদেহ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হলে কারাবন্দি স্বামী ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দাম স্ত্রী ও সন্তানকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পান। ছবি : বাংলাদেশের খবর
বাগেরহাটে ৯ মাসের সন্তানকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার পর নিজে ‘আত্মহত্যাকারী’ কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর মরদেহ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হলে কারাবন্দি স্বামী ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দাম স্ত্রী ও সন্তানকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পান।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মা ও শিশুসন্তানের মরদেহ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। কারাগারের ভেতরে মরদেহ দুটি আনা হলে কর্তৃপক্ষ সাদ্দামকে শেষবারের মতো স্ত্রী ও সন্তানকে দেখার অনুমতি দেয়। এ সময় তিনি স্ত্রীকে ছুঁয়ে দেখেন এবং জীবনে প্রথমবার নিজের শিশুসন্তানকে কোলে নেন।
এর আগে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। নিহত কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী ছিলেন কারাবন্দি সাদ্দামের স্ত্রী এবং নিহত শিশু তাদের ৯ মাস বয়সী সন্তান।
স্বজনদের ভাষ্য, স্বর্ণালী তার স্বামীকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। দীর্ঘদিন ধরে স্বামী কারাবন্দি থাকায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। স্বামীর মুক্তির জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তিনি হতাশায় ভুগছিলেন।
স্বজনরা আরও জানান, চরম হতাশার একপর্যায়ে স্বর্ণালী প্রথমে বালতিতে থাকা পানিতে তার ৯ মাসের শিশুসন্তানকে চুবিয়ে হত্যা করেন। এরপর নিজেও গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাদ্দামের বাড়িতে তার মা, বোন, স্ত্রী ও সন্তান একসঙ্গে বসবাস করতেন। কারাবন্দি অবস্থায় সাদ্দাম মাঝে মাঝে স্ত্রীকে চিরকুট পাঠাতেন এবং দ্রুত মুক্তি পাওয়ার আশ্বাস দিতেন। এসব বিষয় স্বর্ণালীর ওপর মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহম্মেদ জানান, সাদ্দামকে গত ১৫ ডিসেম্বর যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়। তিনি বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় সেখানে আটক রয়েছেন। সব নিয়ম মেনে সন্ধ্যার পর মরদেহ দুটি কারাগারে আনা হয়। শেষ দেখা শেষে সাদ্দামকে আবার তার নিজ ওয়ার্ডে পাঠানো হয়।
শহিদ জয়/এমবি

