মানিকগঞ্জে প্রেস সচিবের নাম ব্যবহার করে সাংবাদিককে হুমকি, তদন্তে অগ্রগতি নেই
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৬
ছবি : বাংলাদেশের খবর
মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের নাম ব্যবহার করে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার এক বছরেরও বেশি সময় পার হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহিঃবিভাগে বেসরকারি ক্লিনিকে রোগী সরানোর একটি অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে যান স্থানীয় দুই সাংবাদিক। সেখানে গিয়ে তারা সরকারি টিকিটে একটি বেসরকারি হাসপাতালের নাম উল্লেখ করতে দেখেন ডা. এ.কিউ.এম আশরাফুল হককে। বিষয়টিতে তার বক্তব্য নিতে গেলে তিনি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের নাম উল্লেখ করে সাংবাদিকদের হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০২৫ সালের ২৫ মে সাংবাদিক আফ্রিদি আহাম্মেদ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও বিষয়ে কোনো তদন্ত অগ্রগতি বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযুক্ত চিকিৎসক পদোন্নতি পেয়ে সহকারী অধ্যাপকের দায়িত্ব পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তিনি সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত), আরপি মেডিসিন ও সহকারী অধ্যাপক—এ তিন পদে একই সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন বলেও শোনা যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডা. আশরাফুল হক আগে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করছেন বলে বিভিন্ন মহলের দাবি।
এ প্রসঙ্গে আরটিভি ও বাংলাদেশের খবরের মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি আফ্রিদি আহাম্মেদ বলেন, ‘হুমকির বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়া এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অভিযোগ করার পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। সে এখন তিন পদের বেতন নিচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে। গণমাধ্যমকর্মীদের যারা হুমকি দেবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’
মানিকগঞ্জ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক ওমর ফারুক বলেন, ‘পূর্বে তিনি সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সখ্যতা থাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতেন। এখন তিনি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের নাম ব্যবহার করে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন মানুষকে হয়রানি করছেন। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হয়ে উল্টো পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তার শক্তির উৎস কী—সেটা খতিয়ে দেখা দরকার।’
মানিকগঞ্জ টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম লিটন বলেন, ‘হাসপাতালে সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন আচরণ ও প্রেস সচিবের নাম ব্যবহার করা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও দুঃখজনক। অভিযোগের পরও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।’
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ বিষয়ে বলেন, ‘আমি ওই লোককে চিনি না। কেউ যদি আমার নাম ব্যবহার করে, তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেবেন। ঘটনার জন্য কর্তৃপক্ষের তদন্ত কমিটি গঠন করা উচিত।’
আফ্রিদি আহাম্মেদ/এআরএস

