শেরপুরে সংঘর্ষে নিহত জামায়াত নেতার দাফন
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২২:২৭
শেরপুরের শ্রীবরদীতে বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে শ্রীবরদী উপজেলার গড়জরিপা ইউনিয়নের চাউলিয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে শ্রীবরদী সরকারি কলেজ মাঠে মাওলানা রেজাউল করিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষের ঢল নামে। পরে তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়ি গড়জরিপা ইউনিয়নের চাউলিয়া গ্রামে নেওয়া হয়। সেখানে রাত সাড়ে ৮টার দিকে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
জানাজা ও দাফন উপলক্ষে শ্রীবরদীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রশাসন। এলাকায় চার প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও সেনাসদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে।
নিহত মাওলানা রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলার ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবি বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে রেখে গেছেন। ঘটনার পর তাঁর পরিবারের সব দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
জানাজার নামাজে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সেক্রেটারি ড. মো. ছামিউল হক ফারুকী বলেন, সরকারিভাবে আয়োজিত নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে সেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা প্রশাসনের ব্যর্থতা। তিনি বলেন, ‘সেখানে গিয়ে আমাদের ভাই মাওলানা রেজাউল করিম সন্ত্রাসীদের হামলায় শাহাদাত বরণ করেছেন। যারা প্রকাশ্যে হামলা করেছে, তাদের এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি। এটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা।’
ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি হাফেজ রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ভাইকে যারা হামলা করে হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।’
এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর জেলা আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার লিখন মিয়া হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
উল্লেখ্য, বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ঝিনাইগাতী উপজেলার স্টেডিয়া এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত নির্বাচনি ইশতেহার অনুষ্ঠান চলাকালে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে মাওলানা রেজাউল করিম মারা যান।
এ ঘটনায় দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম ও ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-কে প্রত্যাহার করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
জেলা পুলিশ সুপার কামরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘মাওলানা রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় পুলিশের একটি বিশেষ দল কাজ করছে।’
এএস/

