মিয়ানমারে জঙ্গলে জিম্মি থাকার পর টেকনাফে কিশোর উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:০৭
সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে গিয়ে মিয়ানমারের জঙ্গলে ৫০ দিন জিম্মি করে রাখা এক কিশোরকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বয়স কম হওয়ায় তাকে আবারও টেকনাফে এনে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ছবি : বাংলাদেশের খবর
সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে গিয়ে মিয়ানমারের জঙ্গলে ৫০ দিন জিম্মি করে রাখা এক কিশোরকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বয়স কম হওয়ায় তাকে আবারও টেকনাফে এনে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে টেকনাফ উপজেলার সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দরগাহছড়া এলাকায় নুরুল ইসলামের বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে কিশোর জুবায়েরকে (১৭) উদ্ধার করা হয়।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) অলক বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
উদ্ধার হওয়া জুবায়ের টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ঝিমংখালী এলাকার মৃত ইমাম হোসেনের ছেলে।
গ্রেপ্তাররা হলেন- টেকনাফ সদর ইউনিয়নের দরগাহছড়া এলাকার মৃত কাসেম আলীর ছেলে নুরুল ইসলাম (৫০), ছিদ্দিক আহমদ (৫৪), একই এলাকার মৃত আব্দুস ছালামের ছেলে আব্দুল্লাহ (২৫) এবং উখিয়ার বালুখালী ১০ নম্বর ক্যাম্পের (ব্লক-এফ-১৭) আলী আকবরের ছেলে হামিদ উল্লাহ (১৯)।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অলক বিশ্বাস বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের একটি দল দরগাহছড়া এলাকায় নুরুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে অপহৃত জুবায়েরকে উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।’
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তাররা একটি সংঘবদ্ধ অপহরণ ও মানবপাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে টেকনাফ ও কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে লোকজন সংগ্রহ করে অবৈধভাবে সমুদ্রপথে বিদেশে পাচার এবং মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। ভিকটিম জুবায়েরকে প্রায় দুই মাস আগে মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে সমুদ্রপথে নিয়ে গিয়ে মিয়ানমারের জঙ্গলে প্রায় ৫০ দিন আটকে রাখা হয়। পরে বয়স কম হওয়ায় তাকে পুনরায় বাংলাদেশে এনে ১ নম্বর আসামি নুরুল ইসলামের বাড়িতে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, ভিকটিমের পরিবার বিকাশের মাধ্যমে দাবিকৃত ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও তাকে মুক্তি না দিয়ে আরও টাকা দাবি করে চক্রটি। পরে পরিবারের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় অপহরণের কাজে ব্যবহৃত একটি ইজিবাইক জব্দ করা হয়েছে।
ইমতিয়াজ মাহমুদ ইমন/এমবি

