জমি নিয়ে বিরোধে ২ সহোদরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির ‘মিথ্যা’ অভিযোগ
আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৭
ছবি : বাংলাদেশের খবর
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আপন দুই ব্যবসায়ী সহোদরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। তবে সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাস্তা দখল ও ভবন নির্মাণ নিয়ে বিরোধের জেরে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। খোদ অভিযোগকারীও পুলিশের কাছে চাঁদা দাবির বিষয়টি সঠিক নয় বলে স্বীকার করেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে। ভুক্তভোগীরা হলেন ওই এলাকার মৃত এনায়েত মোল্যার ছেলে হাসিব হোসেন রুহিন ও আরিফ হোসেন প্রিন্স।
সরেজমিনে জানা গেছে, কৃষ্ণপুর গ্রামের ইছহাক মল্লিকের সঙ্গে তার চাচাতো ভাই মৃত শাহজাহান মল্লিকের পরিবারের জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। সম্প্রতি ইছহাক মল্লিক তার নিজস্ব সম্পত্তিতে একটি দ্বিতল ভবন নির্মাণের সময় শাহজাহান মল্লিকের জমির চলাচলের রাস্তা দখল করে সেফটি ট্যাংকি নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এতে শাহজাহান মল্লিকের দুই জামাতা হাসিব হোসেন রুহিন ও আরিফ হোসেন প্রিন্স বাধা প্রদান করেন। এই তর্কের জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ইছহাক মল্লিক ওই দুই সহোদরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন। পরবর্তীতে ইছহাক মল্লিকের একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।
জমি সংক্রান্ত এই বিরোধ নিয়ে উভয় পক্ষ আলফাডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তবে অনুসন্ধানের সময় অভিযোগকারী ইছহাক মল্লিকই পুলিশের সামনে চাঁদাবাজির বিষয়টি অস্বীকার করেন। প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জমি নিয়ে বিরোধের কারণে তারা আমাকে সেফটি ট্যাংকি নির্মাণে বাধা দিয়েছিল। তবে চাঁদা দাবির বিষয়টি সঠিক নয়।’ এ সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।
ভুক্তভোগী হাসিব হোসেন রুহিন ও আরিফ হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘ইছহাক মল্লিক আমার শ্বশুরের রাস্তা দখল করে কাজ করতে চেয়েছিলেন। আমরা শুধু তাতে বাধা দিয়েছি। কিন্তু তিনি প্রতিহিংসাবশত আমাদের সামাজিকভাবে হেয় করতে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলেছেন।’
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নেওয়াজ হোসেন জানান, উভয় পক্ষের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়েছে। বর্তমানে উভয় পক্ষ নিজেদের মধ্যে বিষয়টি সমাধান করে নিয়েছে। তবে সেখানে চাঁদাবাজির মতো কোনো ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা বলছেন, ব্যক্তিগত ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে ‘চাঁদাবাজি’ হিসেবে প্রচার করা একটি সুস্থ সমাজের অন্তরায়। তারা এমন অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

