রাশেদ খাঁনের সামনেই বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ১২
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:৪৪
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বিএনপির সমন্বয় সভায় দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিন পুলিশসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। ছবি : বাংলাদেশের খবর
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বিএনপির সমন্বয় সভায় দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিন পুলিশসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে কালীগঞ্জ থানার সামনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাশেদ খাঁনের উপস্থিতিতে নির্বাচনী অফিসে এ ঘটনা ঘটে।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- এএসআই জাহিদ, কনস্টেবল পিকুল ও কনস্টেবল সেলিম। এর মধ্যে দুজনকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
নেতাকর্মীরা জানান, সকালে সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী রাশেদ খাঁনের পরাজিত হওয়ার কারণ নিয়ে মহারাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সমন্বয় সভা চলছিল। এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি প্রার্থী রাশেদ খাঁন। এ সময় সভায় মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমের বিরুদ্ধে জামায়াতের পক্ষে ভোট করার অভিযোগ তোলেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাজাহান আলী। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে তারা থানার মধ্যে ঢুকে পড়ে পুলিশের ওপর হামলা করে। এতে তিন পুলিশ আহত হন। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চালায়। এ সময় সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিরা পুলিশের ওপরও চড়াও হয়। এতে পুলিশ সদস্যসহ ১২ জন আহত হন। আহতদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা লুৎফুর রহমান লেন্টু জানান, রাশেদ খাঁনের নেতৃত্বে পার্টি অফিসে আলোচনা সভা চলছিল। এ সময় মহারাজপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খুরশিদ আলম তার সমর্থকদের নিয়ে অফিসের বাইরে অবস্থান নেন। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত রাশেদ খাঁনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জেল্লাল হোসেন বলেন, থানায় তাবাসসুম হত্যা মামলার প্রধান আসামি আবু তাহেরকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান স্যার সাংবাদিকদের নিয়ে প্রেস ব্রিফিং করছিলেন। এ সময় থানার সামনে বিএনপির পার্টি অফিসে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে পুলিশসহ ১২ জন আহত হন।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এম বুরহান উদ্দীন/এমবি

