ছবি: সংগৃহীত
নড়াইলের লোহাগড়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। শনিবার সকালে উপজেলার লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের বাঁকা গ্রামে এই সংঘর্ষ ঘটে। এতে নারীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। বিবদমান পক্ষ দুটির মধ্যে একটি আওয়ামী লীগের, অপরটি বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে লুৎফুন নাহার, রেখা বেগম, ইউপি সদস্য মো. জিরু কাজী, লিটন মিয়া, হিমায়েত হোসেন, ফিরোজ মোল্যা, মুসা মোল্যা, শরিফুল ইসলাম, হাসান মোল্যা, প্রিন্স রহমান, কাদের আলী, আক্তার মোল্যা, মিরাজ মোল্যা ও সেলিম বিশ্বাসের নাম জানা গেছে। তাদের লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর অবস্থায় জিরু কাজীকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপাশা ইউপির ওয়ার্ড সদস্য জিরু কাজী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক। তাঁর সঙ্গে আধিপত্য বিস্তারসহ নানা বিষয়ে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব রয়েছে একই গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তার মোল্যার। অতীতে তাদের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষও ঘটেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শুক্রবার দেশের রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে আক্তার মোল্যার লোকজন মসজিদের ভেতরে ঢুকে জিরু কাজীর লোকজনকে মারধর করে। এর জের ধরে শনিবার সকালে দুই পক্ষ ঢাল-সড়কি, রামদা, ইটপাটকেল, লাঠিসোটাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশ সংবাদ পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিএনপি নেতা আক্তার মোল্যা বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে জিরু কাজীর নির্যাতনের শিকার হয়েছি, জেল খেটেছি। এমনকি পালিয়ে বেড়িয়েছি। এখনও তাঁর লোকজন এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে মানুষকে হয়রানি করছিল। এসবের প্রতিবাদে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।’
চিকিৎসাধীন জিরু কাজী মোবাইল ফোনে বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আক্তার মোল্যার লোকজন বেপরোয়া হয়ে পড়েছে। তারা শুক্রবার আমার লোকজনকে মারধর করেছে। এর জের ধরে শনিবার উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।’
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এএস/

