Logo

সারাদেশ

প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বান্দরবানে চলছে পাহাড় নিধন

Icon

বান্দরবান প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬, ২০:১৩

প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বান্দরবানে চলছে পাহাড় নিধন

পর্যটন নগরী বান্দরবানে থামছেই না অবৈধভাবে পাহাড় কাটা। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দিনের পর দিন নির্বিচারে কেটে ফেলা হচ্ছে পাহাড়। বসতবাড়ি তৈরি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, পুকুর ও জলাশয় ভরাট, বাঁধ নির্মাণ, ইটভাটা এবং রাস্তা নির্মাণের নামে সরকারি বেসরকারি ও ব্যক্তি মালিকানায় নামে-বেনামে প্রভাবশালীরা কাটছে এসব পাহাড়। এর ফলে একদিকে যেমন বাড়ছে ভূমিধসের আশঙ্কা অন্যদিকে হুমকিতে পাহাড়ের জীববৈচিত্র। তাই পাহাড়ের প্রাণ পরিবেশ রক্ষায় পাহাড় কাটা বন্ধের দাবী স্থানীয়দের।

এদিকে, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সমতলের চেয়ে আলাদা পার্বত্য জেলা বান্দরবান। এ জেলায় রয়েছে বড় বড় পাহাড় বনাঞ্চল ও প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র। চারিদিকে উচু নিচু ও বড় বড় পাহাড় হওয়ায় সমতল ভূমি পরিমাণে কম। তাই বিভিন্ন পাহাড়ের পাদদেশে পাহাড় কেটে বসতি গড়ে তুলেছে জেলার লক্ষাধিক মানুষ। শুধু তাই নয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, পুকুর ও জলাশয় ভরাট, বাঁধ নির্মাণ, ইটভাটা, রাস্তা নির্মাণসহ নানা অজুহাতে প্রতিনিয়ত চলছে স্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কর্তনের কাজ। শহরের বনরূপা কালাঘাটা, বালাঘাটা, ক্যাচিংঘাটা, রোয়াংছড়ি বাসষ্টেশন, লেমুঝিরি, বাকিছড়া, ফজর আলী পাড়াসহ জেলার বিভিন্ন জায়গায় চলছে পাহাড় কাটার এই মহোৎসব। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করা হলেও কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না পাহাড় খেকোদের দৌরাত্ম। এদিকে অবাধে পাহাড় কর্তনের ফলে দিন দিন বাড়ছে ভূমি ধ্বসের আশংকা। এছাড়াও প্রতিবছর বর্ষায় দেখা দেয় পাহাড় ধ্বসের ঝুঁকি, প্রায় সময় ঘটে প্রাণহানীর ঘটনা। তাই পাহাড়ের জীববৈচিত্র রক্ষা ও পাহাড় ধ্বসের ঝুঁকি কমাতে নামে-বেনামে পাহাড় কর্তন বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা এলাকাবাসীর।

বান্দরবান পৌর এলাকার বাসিন্দা খালেদ বলেন, ‘প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুম আসলেই বান্দরবানে চলে পাহাড় কাটা। এখানে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট পাহাড় কাটার সাথে জড়িত। যার কারণে প্রশাসন অভিযানে গিয়ে নাম মাত্র জরিমানা করে থাকে। ফলে দিন দিন বেপরোয়া হচ্ছে পাহাড় কাটার সিন্ডিকেটরা। এভাবে যদি পাহাড় নিধন হতে থাকে তাহলে অচিরেই পাহাড় শূন্য হয়ে পড়বে পর্যটন নগরী বান্দরবান। তাই পাহাড়ের প্রাণ প্রকৃতি রক্ষায় পাহাড় খেকোদের বিরুদ্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবী জানান এলাকার সচেতন মহল।  

এদিকে পাহাড়ের প্রাণ প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র রক্ষায় পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা দেন বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে পাহাড় কাটার সিন্ডিকেটদের পরিবর্তন হয়। যারা পাহাড় কাটার সাথে জড়িত তাদের তালিকা করতেছি। ইতোমধ্যে অনেকের নামে মামলা হয়েছে। বান্দরবানে পাহাড় কাটা বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।  

উল্লেখ্য, পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে জেলায় গেল এক বছরে এ পর্যন্ত ৬৫টি ভ্রাম্যমান আদালত ও এনফোর্সমেন্ট মামলার মাধ্যমে প্রায় আড়াই কোটি টাকা জরিমানা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও আদালতে মামলা চলমান রয়েছে ১৫টি। 

এন.এ জাকির/এসএসকে/

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

পাহাড় ধস

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর