টাঙ্গাইলে ট্রেন দুর্ঘটনা
নিহতদের পরিবারকে মরদেহ ও ক্ষতিপূরণ হস্তান্তর
কালিহাতী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬, ২১:১২
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রেনের ধাক্কায় মা-ছেলেসহ নিহত পাঁচ পোশাক শ্রমিকের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শনিবার ভোর ৪টার দিকে টাঙ্গাইল রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির পক্ষ থেকে স্বজনদের কাছে মরদেহগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় দাফন ও জরুরি প্রয়োজনে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন— গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর
উপজেলার পূরাব নিজপাগা গ্রামের হামিদুল ইসলামের স্ত্রী নার্গিস, তাঁর ছেলে নিরব, নার্গিসের
বড় ছেলের শাশুড়ি দোলা, একই এলাকার রাইজেল মিয়ার ছেলে সুলতান এবং আব্দুর রশিদের মেয়ে
রিফা আক্তার। তাঁরা সবাই ঢাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন এবং ঈদের ছুটি
শেষে কর্মস্থলে ফিরছিলেন।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে
জানা গেছে, গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে গাইবান্ধা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী
বাস কালিহাতী উপজেলার ধলাটেঙ্গর এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ তেল ফুরিয়ে যায়। চালক ও হেলপার
বাসটি মহাসড়কের পাশে রেললাইনের খুব কাছে দাঁড় করিয়ে তেল আনতে যান। দীর্ঘ সময় বাস দাঁড়িয়ে
থাকায় গরম ও ক্লান্তিতে অনেক যাত্রী নিচে নেমে আসেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন রেললাইনের
ওপর বসে ফোনে কথা বলছিলেন। এ সময় টাঙ্গাইল থেকে ছেড়ে আসা ‘সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি দ্রুতগতিতে
ওই এলাকা অতিক্রম করার সময় লাইনে বসে থাকা যাত্রীদের ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই শিশুসহ
পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
নিহত রিফা আক্তারের বড় ভাই আব্দুল মোমিন
জানান, ভোর ৪টার দিকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আমরা লাশগুলো বুঝে পেয়েছি। নিহতরা সবাই আমাদের
আত্মীয়-স্বজন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দাফন খরচের জন্য আমাদের ২৫ হাজার টাকা করে দিয়েছে।
বাদ জোহর গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
টাঙ্গাইল রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ
এসআই মিজানুর রহমান বলেন, অসাবধানতাবশত রেললাইনে বসে থাকার কারণেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি
ঘটেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায়
একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

