থানায় জিডি করেছেন ভুক্তভোগী
গাজীপুরে ইমারত পরিদর্শককে ঘিরে ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০০:৩৫
ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ইমারত পরিদর্শক মুরাদ আলী খানকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চলছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরিও করেছেন তিনি।
জানা যায়, সম্প্রতি একটি ভাইরাল ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হয়, মুরাদ আলী খান সরকারি দায়িত্বের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কয়েক ডজন বাড়ি নির্মাণ করেছেন; যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫০ কোটি টাকারও বেশি।
পোস্টটিতে বিভিন্ন ভবনের ছবি সংযুক্ত করে সেগুলোর মালিকানা তার বলে উল্লেখ করা হয়।
মুরাদ আলী খান অভিযোগ করেন, যাচাইবিহীন ও মিথ্যা এসব তথ্য দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে কৌতূহল, সন্দেহ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) মুরাদ আলী খান গাজীপুর সদর মেট্রোপলিটন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর-৪৬২) দায়ের করেন।
জিডিতে তিনি অভিযোগ করেন, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বা একটি সংঘবদ্ধ চক্র তার ছবি, নাম এবং বিভিন্ন স্থাপনার ছবি ব্যবহার করে ‘Jawad Nirihor’ নামে একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলেছে। ওই আইডির মাধ্যমে তার পরিচিতজনদের কাছে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে তার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও পেশাগত সুনাম হুমকির মুখে পড়েছে।
জিডিতে আরও বলা হয়, বিষয়টি জানার পর তিনি পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও সহকর্মীদের অবহিত করেছেন এবং সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা কামনা করেছেন। সংশ্লিষ্ট থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।
মুরাদ আলী খানের পক্ষ থেকে অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে, যার লক্ষ্য তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা। তিনি বলেন, চাকরি জীবনের শুরু থেকেই আমি সততা, নিষ্ঠা ও পেশাগত আদর্শ বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করে আসছি।
তার সহকর্মীদের অনেকে জানান, মুরাদ আলী খান দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তার বিরুদ্ধে পূর্বে এমন কোনো গুরুতর অভিযোগ ওঠেনি। তাদের দাবি, দায়িত্ব পালনে নীতিগত কঠোর অবস্থানের কারণে তিনি কিছু অসাধু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর বিরাগভাজন হয়েছেন; যা থেকে এ ধরনের অপপ্রচারের সূত্রপাত হতে পারে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও এ ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই জানান, মুরাদ আলী খান দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুরের ভুরুলিয়া এলাকায় বসবাস করছেন এবং সামাজিকভাবে তার ইতিবাচক পরিচিতি রয়েছে। তারা অভিযোগগুলোকে সন্দেহের চোখে দেখছেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা বর্তমান ডিজিটাল যুগে তথ্যপ্রবাহের দ্বৈত বাস্তবতাকে স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। একদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দ্রুত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার কার্যকর মাধ্যম, অন্যদিকে যাচাইবিহীন তথ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। একই সঙ্গে, অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রমাণভিত্তিক অনুসন্ধান ও যথাযথ তদন্ত অপরিহার্য।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রচার দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।
ঘটনার প্রেক্ষাপটে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে-ভাইরাল হওয়া ভবনগুলোর প্রকৃত মালিকানা কার, অভিযোগকারীদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য কী, ভুয়া ফেসবুক আইডির নেপথ্যে কারা রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ধরনের তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
মুরাদ আলী খানের সহকর্মীদের দাবি, অপপ্রচারকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন, যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

