দীর্ঘদিনের স্বপ্নের বাস্তবায়ন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সরস্বতী জ্ঞান মন্দির’ উদ্বোধন
চবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০:০৩
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) উদ্বোধন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় মন্দির ‘সরস্বতী জ্ঞান মন্দির’। বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতনী শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং দানশীল ব্যক্তিদের সহায়তায় নির্মিত এই মন্দির এখন জ্ঞানচর্চা ও আধ্যাত্মিক সাধনার নতুন কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
মন্দির নির্মাণ যাত্রায় মুখ্য ভূমিকা পালন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন সনাতনী শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের সুধীজন আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। প্রশাসনিক, নিরাপত্তা ও নির্মাণসংক্রান্ত বিভিন্ন সহায়তা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
মন্দিরের মূল স্থাপনা ‘সরস্বতী জ্ঞান মন্দির’ নির্মাণে সম্পূর্ণ অর্থায়ন করেন দানবীর অদুল-অনিতা ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি অদুল কান্তি চৌধুরী ও অনিতা চৌধুরী। নির্মাণকাজ তদারকি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত মন্দির নির্মাণ কমিটি এবং মন্দির পরিচালনা কমিটি। সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিল চবি সনাতন ধর্ম পরিষদ। নির্মাণকাজে সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন প্রয়াত বাদল কান্তি চৌধুরী ও বিশ্বজিৎ দাস। ডিজাইন ও প্রকৌশল সহায়তা দেয় ‘এস্ট্রো’ এবং ইন্টেরিয়র ও কারিগরি সহায়তা দেয় ‘দি-অ্যাড কমিউনিকেশন’।
উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘জ্ঞানই শক্তি, জ্ঞানই মুক্তি’— এই দর্শনকে সামনে রেখে মন্দিরটি শুধু উপাসনার স্থান হিসেবেই নয়, বরং আধ্যাত্মিক ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, মন্দির প্রাঙ্গণে একটি বৈদিক গ্রন্থাগার স্থাপন করা হবে, যেখানে নিয়মিত সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক জ্ঞানচর্চা হবে। এ ছাড়া একটি ধ্যানকেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে সহায়তা করা হবে। সনাতনী শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যার সমাধানে একটি আবাসিক হল নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। একইসঙ্গে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সহায়তায় একটি কল্যাণ তহবিল গঠন করা হবে।
মন্দির নির্মাণের পেছনের ইতিহাস তুলে ধরে সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হলেও স্থায়ী উপাসনালয়ের অভাবে শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় চর্চায় প্রতিবন্ধকতা ছিল। এ প্রেক্ষিতে সনাতনী শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত হয় সনাতন ধর্ম পরিষদ। তাদের ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মন্দির নির্মাণের জন্য জায়গা বরাদ্দ দেয়।
পরবর্তীতে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অনুদানে শুরু হয় মন্দির কমপ্লেক্সের উন্নয়ন কাজ। প্রাথমিকভাবে নির্মাণ করা হয় সীমানা প্রাচীর, রিটেনশন ওয়াল এবং মাটি ভরাটের কাজ। সেই স্থানেই খোলা আকাশের নিচে শুরু হয় সরস্বতী পূজার আয়োজন, যা পরবর্তীতে একটি পূর্ণাঙ্গ মন্দির নির্মাণের স্বপ্নকে আরও জোরালো করে তোলে।
অবশেষে দীর্ঘ আট বছরের প্রচেষ্টায় নির্মিত হয় নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীর এই আইকনিক ‘সরস্বতী জ্ঞান মন্দির, যা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতনী সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করেছে।
উদ্বোধনী কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. তাপসী ঘোষ রায় ও সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. অঞ্জন কুমার চৌধুরী সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ভবিষ্যতেও এই মন্দিরকে ঘিরে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে তারা সমাজের বিত্তবানদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

