Logo

সারাদেশ

কুষ্টিয়ায় পীর হত্যা: পাঁচ দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি কেউ

Icon

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:১৫

কুষ্টিয়ায় পীর হত্যা: পাঁচ দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি কেউ

ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীম হত্যায় পাঁচ দিনেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। পুলিশ জানিয়েছে, ওই ঘটনায় আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। 

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে গণমাধ্যমকে বলেন, মামলার কোনো আসামি গ্রেপ্তার নেই। অভিযান চালিয়েও আসামিদের পাওয়া যাচ্ছে না।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসামিদের এলাকায় প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাদের সরব উপস্থিতি আছে। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে ওসি আরিফুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই।

পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীমের কয়েক বছর আগের ৩৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও গত শুক্রবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যাতে পবিত্র কোরআন সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার সকালে দৌলতপুরের ফিলিপনগরে পীর আবদুর রহমানের দরবার থেকে আধা কিলোমিটার দূরে আবেদের ঘাট এলাকায় শতাধিক মানুষ জড়ো হয়। এরপর দুপুরের পর তারা ওই দরবারে হামলা চালায় এবং পুলিশের উপস্থিতিতেই শামীমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে।

সোমবার রাতে নিহত ব্যক্তির বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এতে প্রধান ও হুকুমের আসামি করা হয়েছে স্থানীয় জামায়াতের নেতা মুহাম্মদ খাজা আহমেদকে (৩৮)। তিনি কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য। তার বাড়ি ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে।

মামলার এজাহারে চারজনের নাম ও পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য তিনজন হলেন দৌলতপুর উপজেলার হোসেনাবাদ (বিশ্বাসপাড়া) গ্রামের মৃত এরশাদ আলীর ছেলে মো. আসাদুজ্জামান (৩৫)। তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি। ৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে পশ্চিম-দক্ষিণ ফিলিপনগর দারোগার মোড় এলাকার গাজী মিস্ত্রীর ছেলে রাজীব মিস্ত্রীকে (৪৫)। ৪ নম্বর আসামি হলেন ইসলামপুর (পূর্ব পাড়া) গ্রামের বাসিন্দা মো. শিহাব। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে।

হত্যার ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াত গণমাধ্যমে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠায়। দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দীন ও সেক্রেটারি আবদুল্লাহ আল নোমান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ফিলিপনগরের ঘটনা কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ নয়। এমনকি ঘটনার সঙ্গে জড়িত কেউই রাজনৈতিক দলের নেতা বা কর্মী নন। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আকস্মিকভাবে ঘটেছে। এটি রাজনৈতিক কোনো পরিকল্পনার অংশ নয়। তবু বিষয়টি একটি রাজনৈতিক মহলের ইন্ধনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে জড়িয়ে মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতা বা কর্মী জড়িত নেই। 

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন