তাহিরপুরে ধানের বাম্পার ফলন, হাওরজুড়ে মাড়াইয়ের কাজ শুরু
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৫১
হাওরপাড়ের মানুষের চোখ এখন আকাশের দিকে,কারণ আকাশের রং পাল্টায় ক্ষণে ক্ষণে। এর মধ্যেই সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার ছোট-বড় ২৩টি আগাম জাতের ধান পেকে যাওয়ায় কষ্টে ফলানো সোনালী ধান কাটা শুরু করেছেন মনে আনন্দ নিয়ে কৃষকগন। এবার এই উপজেলার বাম্পার ফলেনে কুশি হাওর পাড়ে হাজার হাজার কৃষক। তবে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হতে আরও সাপ্তাহ-দশ দিন সময় লাগবে।
কাটা ধান হাওর থেকে খলায় এনে মাড়াই করে শুকিয়ে ধান ঘরের গোলায় তোলার জন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ততার দম ফেলার ফুসরত নেই।
অন্যদিকে,বৈরী আবহাওয়ায় আর বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের কারনে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে বাঁধ ভেঙে ফসল ডুবে বৈশাখের আনন্দ বিষাদে রূপান্তরিত হওয়ার আশংকায় কৃষকের হাসি কান্নার লড়াই চলছে হাওর জুড়ে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার মাটিয়ান হাওর,শনি হাওরসহ বিভিন্ন হাওরে উৎসব মুখর পরিবেশে আগাম জাতের ব্রি-২৮,ব্রী-৯৬ ধানসহ বিভিন্ন জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে। এসব ধান চাষাবাদ করা কৃষকগন অনেকেই ক্ষতি শিকার হয়েছেন।
এদিকে, বৃষ্টির পানিতে হাওরের নিচু এলাকার জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যাওয়ায় কয়েকটি হাওরের আধা-পাকা ধান তা রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন কৃষকগন। শ্রমিক সংকটে ধান কাটা মেশিন দিয়ে কাটতে গিয়ে কাঁদা মাটিতে আটকে যাচ্ছে। এতে করে মহা বিপদে পড়েছেন কৃষকগন।
এ ছাড়াও প্রতি বছরেই কোনো না কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের খরগ নামে এক ফসলী ধানের উপর। এরপরও বংশ পরম্পরায় হাওরাঞ্চলে কৃষকগণ চাষাবাদে করছেন বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় জীবন জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন হিসাবে।
ফসল রক্ষায় চলতি বছরে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হলেও ফসল হানির আশংকা কাটে না সময় মত বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু ও শেষ না করায় আর নির্মাণে অনিয়মের কারনে অভিযোগ করেন হাওরাঞ্চলের কৃষক।
সাদেক আলী,সাকিব মুন খোকনসহ উপজেলার সচেতন মহল বলছেন,যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে আর ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে পাহাড়ি ঢল না আসে আর ফসল রক্ষা বাঁধ ঠিলে থাকে তাহলে ঘাম ঝরানো সোনালী ফসল ঘরে তুলতে পারবে। না হলে আনন্দের মৌসুমেই,কান্নার রোল পড়তে পারে হাওরাঞ্চলের হাজারো কৃষক পরিবারের। আর কৃংকর্তব্য বিমূঢ় হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হবে তাদের।
উপজেলার মাটিয়ান হাওরের কৃষক আলী হোসেন বলেন,আমার জমিতে ব্রী-৯৬ চাষ করেছিলাম, ফলনও ভালো হিেয়ল কিন্তু পাকা ধান কাটার সয়ম দেখা গেল ধান নষ্ট হয়েছে বেশির ভাগ।
শনির হাওরের কৃষক শফিক মিয়া জানান,ফসল ভাল হলে কি হবে, ফসল রক্ষা বাঁধ নিয়ে চিন্তায় আছি। বাঁধ নির্মাণে একে ত দেরী অপরদিকে অনিয়মের কারনে বাঁধ দূর্ভল হয়েছে। এর মধ্যেই বৈশাখের আনন্দের মাঝেই নতুন করে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টি। পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙে ফসল ডুবির ঘটনা না ঘটে তার জন্য দোয়া করছি।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন,আমাদের লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে বেশি ধানের উৎপাদন হবে এবং আশা করছি কৃষকগন তাদের কষ্টে ফলানো ফসল কেটে গোলায় তুলতে পারবে। এবার উপজেলার তিন শত কোটি টাকার ধান উৎপাদন হবে আশা করছি।
তিনি আরও জানান,আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি তারা যেন ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেলে দ্রুত কেটে ফেলতে। মাঠে আমরা সার্বক্ষণিক নজরদারির পাশাপাশি কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি।
বিকে/মান্নান

