Logo

সারাদেশ

ঝিনাইদহ সীমান্তে উদ্ধার হওয়া লাশটি আফগান নাগরিকের

Icon

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ২১:১৩

ঝিনাইদহ সীমান্তে উদ্ধার হওয়া  লাশটি আফগান নাগরিকের


ভারত থেকে অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় নিখোঁজ হওয়া এক আফগান নাগরিকের মরদেহের পরিচয় মিলেছে। গত ১৩ এপ্রিল ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতী নদী থেকে উদ্ধার হওয়া ওই ব্যক্তি ইতালির পাসপোর্টধারী ব্যবসায়ী হাশমত মোহাম্মাদি। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় সীমান্তে দাফনের ১১ দিন পর তার পরিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাশের ছবি দেখে তাকে শনাক্ত করেছে। পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং এর পেছনে আন্তঃদেশীয় মানব পাচারকারী চক্র জড়িত।

গত ১৩ এপ্রিল মহেশপুর থানা পুলিশ ও বিজিবি মহেশপুর সীমান্তের পলিয়ানপুর এলাকার ইছামতী নদী থেকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার কওে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠায়। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের ডাটাবেজে কোনো মিল না পাওয়ায় ১৪ এপ্রিল ঝিনাইদহ আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে মরদেহটি স্থানীয় গোরস্থানে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। সম্প্রতি মরদেহের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আমেরিকা প্রবাসী মোহাম্মদ ইরা নিশ্চিত করেন যে, এটি তার ছোট ভাই হাশমত মোহাম্মাদি। নিহতের ভাই মোহাম্মদ ইরা আমেরিকা থেকে তার পরিচিত বগুড়ার সন্তান আহসানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আহসান প্রাথমিকভাবে ধারণা করেন, ঘটনাটি যশোরের চৌগাছা সীমান্তে ঘটতে পারে। তিনি চৌগাছা হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সাইদুর রহমান ইমনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ডা. ইমন তাকে স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মীর মোবাইল নম্বর দেন। পরবর্তীতে আহসানের মাধ্যমে মোহাম্মদ ইরা চৌগাছার সাংবাদিক রহিদুলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সাংবাদিক রহিদুল ও ডা. ইমনের দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরেই নিশ্চিত হওয়া যায় যে, মহেশপুর সীমান্তে উদ্ধার হওয়া সেই অজ্ঞাত ব্যক্তিই আসলে নিখোঁজ হাশমত মোহাম্মাদি।

এ বিষয়ে মহেশপুর ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার দিন পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয়েছিল যে নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তিনি মন্তব্য করেন, এখন পুলিশ তদন্তের মাধ্যমেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও রহস্য উদঘাটন করতে পারবে।

হাশমতের মরদেহ উদ্ধারের মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে গত ১৬ এপ্রিল একই সীমান্তের ইছামতী নদীর কচুরিপানার নিচ থেকে রতিকান্ত জয়ধর (৪৬) নামে আরও এক বাংলাদেশি নাগরিকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ও বিজিবি। রতিকান্ত গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। তার পকেটে থাকা বাংলাদেশি পাসপোর্টের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে একই স্থান থেকে দুটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পলিয়ানপুরসহ পার্শ্ববর্তী সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, সীমান্তে চোরাচালান ও মানব পাচারকারী চক্রের তৎপরতা বাড়ায় তারা নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন।

বিজিবি সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং টহল জোরদার করা হয়েছে দাবি করে মহেশপুর ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল রফিকুল ইসলাম জানান, সীমান্তে পাচারকারী ও চোরাচালানীদের তৎপরতা বন্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। তবে পাচারকারীরা অনেক সময় দুর্গম এলাকা ও অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে এসব অপকর্ম করার চেষ্টা করে।

তিনি বলেন, পাচারকারী চক্রগুলো অত্যন্ত সুসংগঠিত। স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতা ছাড়া তাদের পুরোপুরি নির্মূল করা কঠিন। আমরা স্থানীয়দের সচেতন করছি যাতে কেউ এই মরণফাঁদে পা না দেয়। হাশমত মোহাম্মাদি বা রতিকান্ত জয়ধরের মতো মৃত্যু ঠেকাতে বিজিবি ও পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং পাচারকারী চক্রের হোতাদের ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

বিকে/মান্নান


Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন