Logo

সারাদেশ

তীব্র লোডশেডিং

ফেনীতে পানির অভাবে ক্ষতির মুখে ইরি-বোরো

Icon

ফেনী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ২০:১০

ফেনীতে পানির অভাবে ক্ষতির মুখে ইরি-বোরো

ফেনীর পরশুরামে তীব্র লোডশেডিং আর নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন ইরি-বোরো ধান চাষীরা। মৌসুমের একেবারে শেষ সময়ে এসে সেচ সংকটের কারণে কাঙ্খিত ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।

পৌর এলাকার বাউর পাথর গ্রামের চাষি রিমন বলেন, কপাল কতোই খারাপ। যে দিকে যাই শুধু সমস্যা। মরনের আগে মনে হয় শান্তি পাব না। ৪০০ শতাংশ বোরো চাষ করলাম। অনেক টাকা খরচ হল। কষ্টের কথা বাদ দিলাম। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে জমি লাকিত নিলাম। কেন্নে কিস্তি দিমু আল্লাহ জানে। বর্তমানে বোরো মৌসুমের শেষ পর্যায় চলছে। আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যেই ধান পুরোপুরি পেকে যাওয়ার কথা। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ধানের শীষ সুস্থভাবে বের হওয়া এবং পুষ্ট হওয়ার জন্য জমিতে পর্যাপ্ত পানি থাকা অপরিহার্য। কিন্তু নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় সেচ পাম্পগুলো চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

মির্জানগর ইউনিয়নের দক্ষিন কাউতলী গ্রামের কৃষক আব্দুল খালেক জানান, ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা তিনি বলেন এখন পানির খুব প্রয়োজন এই সময় জমিতে পানি না দিতে পারলে ধান চিটা হয়ে যায়। সময়মতো পানি দিতে না পারায় ধানের শীষ ঠিকমতো বের হতে পারছে না। অনেক ক্ষেত্রে ধান শুকিয়ে চিটা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

অন্যদিকে আর একজন কৃষক মো. ইউনুস মিয়া জানান প্রচণ্ড তাপদাহ আর সেচের অভাবে অনেক জমির মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে, যা ধানের ফলন মারাত্মকভাবে কমিয়ে দিতে পারে। এক্ষেত্রে আমাদের কাঙ্খিত ফলাফল নাও পেতে পারি। যে হারে জমিতে সার ও শ্রমের করছি অংকের টাকা বিনিয়োগ করছি শেষ মূহুর্তে এসে বিদ্যুতের এমন লুকোচুরি জন্য আমাদের মেরুদণ্ড ভেঙে যাচ্ছে।

সেচ পাম্পের মালিক মোঃ ফারুক জানান, জমিতে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী পানি সরবরাহ করতে দিনে অন্তত টানা ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে দিনে এক ঘণ্টাও ঠিকমতো বিদ্যুৎ থাকছে না। ধান আর কয়েকদিন পর কাটা হবে। কিন্তু এই সময়েই পানির সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। নিয়মিত কারেন্ট না থাকায় সেলু মেশিন চালানো যাচ্ছে না।

সলিয়া গ্রামের কৃষক জসিম উদ্দিন জানান, সময়মতো পানি দিতে না পারলে তাদের পুরো বছরের কষ্ট বৃথা যাবে। কৃষকদের দাবি নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ করলে সেচ পাম্পের মাধ্যমে জমিতে পানি দেয়া যাবে।

মধ্যম ধনিকুন্ডা এলাকার ব্যবসায়ী রুবেল জানান, শহরের পাঁচ-ছয় ঘন্টা লোডশেডিং হলেও গ্রামের প্রত্যান্ত অঞ্চলে ১০-১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। সঠিক বিদ্যুৎ সরবরাহের অভবে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কৃষি, পোল্ট্রি ও মৎস্য, সবজি এবং ব্যবসা বানিজ্য  খাতে; ক্ষতির মুখে পড়ছে গ্রামীণ অর্থনীতি। একদিকে বিদ্যুৎ স্বল্পতার আরেক দিকে জ্বালানি তেলের সংকট শিল্প-কলকারখানার সক্ষমতাকে ব্যাহত করছে। জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, দেশে বর্তমান বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাবে কৃষি জমিতে সেচ কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং পানির সংকট দেখা দিচ্ছে। যদি একটি নির্দিষ্ট সময়সূচী মেনে নির্দিষ্ট এলাকাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায়, তবে সেচ পাম্পগুলো সচল রাখা সম্ভব হবে। এতে কৃষকরা সময়মতো জমিতে পানি দিতে পারবেন এবং ফসলের ক্ষতি রোধ করা যাবে।

পরশুরাম পল্লী বিদ্যুৎ এর ডিপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মু. সুহেল আক্তার বলেন, আমি বিদ্যুৎ যা পাব তা জনগণকে দিব। আমি বিদ্যুৎ মন্ত্রী নই। আমাকে বললে বিদ্যুৎ বাড়ানো যাবে না।  আমার মতে সাংসদ আবদুল আউয়াল মিন্টুকে বিদ্যুৎ মন্ত্রী দেওয়া উচিত ছিল সরকারের। কারণ তিনি আন্তর্জাতিক ব্যবসা বানিজ্য সম্পর্কে ভালো বুঝে। পরশুরাম উপজেলা যা বরাদ্দ দিবে আমি পুরো উপজেলা বন্টন করে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করি।

বিকে/মান্নান


Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন