Logo

সারাদেশ

‘সব ধর্মই শান্তি ও মানবকল্যাণের কথা বলে’

Icon

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ২০:২০

‘সব ধর্মই শান্তি ও মানবকল্যাণের কথা বলে’

দেশে শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সব ধর্মের অনুসারীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে নগরীর এক আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি সম্মিলনে। বক্তারা বলেন, ধর্মের মূল শিক্ষা মানুষকে শান্তি, সহনশীলতা ও মানবকল্যাণের পথে পরিচালিত করে- তাই বিভেদ নয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানই হতে হবে সমাজ গঠনের ভিত্তি।

শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই-বিপ্লব স্মৃতি হলে ‘পরিবর্তনশীল বিশ্বে ধর্মসাম্যের প্রয়োজনীয়তা ও ধর্মগ্রন্থসমূহে এর দিকনির্দেশনা’ শীর্ষক এ সম্মিলনের আয়োজন করে মাইজভাণ্ডারী একাডেমি। ত্বরিকা-ই-মাইজভাণ্ডারিয়ার প্রতিষ্ঠাতা হযরত শাহ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারীর (ক.) জন্মদ্বিশতবার্ষিকী ও পবিত্র উরস শরীফ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, বিশ্বের প্রতিটি ধর্মই মানুষকে দেশপ্রেম, শান্তি, সহনশীলতা ও মানবকল্যাণের পথে আহ্বান জানায়। তিনি বলেন, ইসলাম ধর্ম বিশেষভাবে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ন্যায়বিচার ও সহিষ্ণুতার শিক্ষা দেয়। ধর্ম নিয়ে উগ্রতা বা অপব্যাখ্যা সমাজে বিভেদ ও সহিংসতা সৃষ্টি করে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের অপশক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, বর্তমান বিশ্বে ক্রমবর্ধমান বিভাজন ও অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে। ধর্মীয় মূল্যবোধ ধারণ করে সমাজ পরিচালিত হলে ন্যায়, সাম্য ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আলোচনায় অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া বলেন, সহিংসতা, ধর্মান্ধতা ও সাম্প্রদায়িক মানসিকতা বিশ্বে অস্থিরতার অন্যতম কারণ। এসব নেতিবাচক চিন্তা দূর না করলে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, নৈতিকতা ছাড়া উন্নত সমাজ গঠন সম্ভব নয় এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার মাধ্যমেই একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

পাঁচরিয়া তপোবন আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী রবীশ্বরান্দ পুরী বলেন, সব ধর্মেই সহাবস্থান ও মানবতার শিক্ষা থাকলেও বাস্তবে এখনো বিদ্বেষ ও বিভাজন রয়ে গেছে। তিনি সবাইকে ভ্রাতৃত্ব, সংযম ও সহিষ্ণুতার চর্চার মাধ্যমে ঐক্যের পথে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবুল হোসাইন বলেন, প্রায় সব ধর্মগ্রন্থেই ন্যায়পরায়ণতা, সততা, দয়া ও মানবিকতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই অভিন্ন মূল্যবোধই বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে সংলাপ, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তি গড়ে তোলে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পাঠ, হামদ ও মাইজভাণ্ডারী সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের বার্তা তুলে ধরা হয়।

বিকে/মান্নান

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন