অভিযানের নামে ভেল্কিবাজি
মেঘনায় নিধন হচ্ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ
তানজিমুল হাসান মায়া’জ, মতলব,চাঁদপুর
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৪৯
চলছে ইলিশ রক্ষার অভিযান, ১ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান কাগজপত্রে চলবে ৩০ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত। যখনই শুরু হয় ইলিশ অভিযান তখনই শুরু হয় লোক দেখানো নানা মহড়া। তোরজোর শুরু হয় জাতীয় থেকে স্থানীয় প্রশাসন পর্যন্ত । দেখানো হয় ব্যপক প্রস্তুতি আর ব্যস্ততা। নৌ-পুলিশ থেকে শুরু করে ,জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ব্যস্ত হয়ে পড়েন জেলেদের আটকাতে । তবে পকেট নিয়ন্ত্রিত কিছু গণমাধ্যম ডেকে নিয়ে মাঝে মাঝে যেসব মহড়া দেখানো হয় তা সাধারণ জনগনের চোঁখে ধুলো দেয়া ছাড়া এর সাথে বাস্তবতার কোন মিল নেই।
ছবিতে দেখানো যেসব মাছ দেখা যাচ্ছে তার সংখ্যা প্রায় কয়েক লাখ । ইলিশ অভিযান চলাকালীন সময়ে গত ৪ এপ্রিল চাঁদপুরের মতলব উত্তরের জহিরাবাদ এলাকায় ঝাকে ঝাকে এসব ইলিশ পোনা নিয়ে হাজির হতে দেখা গেছে একাধিক নৌকা।
চাঁদপুরের ষাটনল থেকে চর আলেকজেন্ডার পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার ইলিশ রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থাপনা থাকার কথা কাগজে কলমে থাকলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। মাঝে মাঝে বিশেষ কিছু গণমাধ্যম ডেকে নিয়ে অভিযানের মহড়া করা হলেও বাকি সময় অদৃশ্য কারণে ঝিমিয়ে পড়ে নৌ-পুলিশ সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।
এসব বিষয়ে নদী নিয়ন্ত্রণে থাকা নৌ-পুলিশের চাঁদপুর অঞ্চলের নৌ-পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান ২৪ এর জুলাই পরবর্তী একই বছরের অক্টোবর মাসে যুক্ত হওয়ার পর থেকে তার সাথে যোগাযোগ করেও স্পষ্ট কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে মতলব উত্তরের ষাটনল,দশানী,এখলাসপুর, আমিরাবাদ, জহিরাবাদ এলাকায় প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ পোনা। নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই জেলার সদর হাইমচর এলাকার বিভিন্ন স্পটে রমরমা ইলিশের বাজার।
তবে ১৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় মতলব উত্তর উপজেলা প্রশাসন মেঘনা নদীর মোহনপুর ও দশানী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ২শ কেজি জাটকা ইলিশ সহ ৫ জনকে আটক করে। এসময় মোহনপুর নৌ-পুলিশ ফাড়ির এএসআই হাফিজ উপস্থিত ছিলেন। সারা বছর নদীতে দায়িত্বপালন করা দাবীকারী ফাড়ি ইনচার্জ এসময় উপস্থিত ছিলেননা।
অভিযানে উপজেলা মৎস কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাসের উপস্থিতিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে আটকৃতদের ১০ দিনের কারাদন্ড প্রদান করেন।
এসব বিষয়ে নৌ-পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার মুশফিকুর রহমান বলেন,ইলিশ অভিযান প্রায় শেষের দিকে। সম্প্রতি জ্বালানী সংকটের কারণে আমরা নিয়মিত অভিযান করতে পারছিনা।
মতলব উত্তর উপজেলার মৎস কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস বলেন, আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে তাই আমরা পুরো এলাকা জুড়ে পর্যাপ্ত নজরদারী করতে পারছিনা। তবে আমরা এখন পর্যন্ত ১৫ টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে ৩৭ টি নৌক আটক এবং ৭২ জনকে জেল হাজতে পাঠিয়েছি। এছাড়াও ৩ লক্ষ মিটার কারেন্ট জাল,২৫ টি মেহুন্দি জাল এবং ২ মেট্রিক টন জাটকা জব্দ করেছি।
বিকে/মান্নান

