Logo

সারাদেশ

ছাদ বাগানের আঙুর ফল খেয়ে সফল উদ্যোক্তা

Icon

মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা)

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৪৩

ছাদ বাগানের আঙুর ফল খেয়ে সফল উদ্যোক্তা

আঙুর চাষ করে সফলতার পথে চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা বত্রিশ বছর বয়সী রানা হোসেন। নিজ গ্রামের মাঠে ১৮কাটা জমিতে আঙুর চাষ করেই সাড়া ফেলে দিয়েছেন। তাঁর বাগানে রয়েছে দেশী বিদেশি বিভিন্ন জাতের আঙুর। বছর না পেরুতেই তার আঙুর বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে সবুজ আঙুর। সকাল বিকেল আঙুর বাগানে আসছেন দর্শনার্থীরা। 

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর মালিতাপাড়ার মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে রানা হোসেন(৩২) গ্রামের কুমারিদহ নামক মাঠে আধুনিক পদ্ধতিতে সাথী ফসল হিসেবে সমতলে গোলাপ ফুল ও মাচায় আঙুর চাষ করেছেন। ফল বিক্রির পাশাপাশি কলম ও চারা বিক্রির মাধ্যমে লাভবান হচ্ছেন সে। গাছগুলো প্রায় পাঁচ ফুট উঁচু জালের মাচায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বাগানের এক পাশে সারি সারি করে চারা বিক্রির জন্য রাখা। আগ্রহীরা সরাসরি কিংবা কুরিয়ারের মাধ্যমে চারা কিনতে পারছেন। প্রতি পিচ চারা বিক্রি করা হচ্ছে ৩’শ টাকা দরে। প্রতিদিনই দর্শনার্থীরা বাগান দেখতে আসছেন; কেউ কেউ দূরদূরান্ত থেকেও আসছেন। কৃষি কর্মকর্তারাও বাগানটি পরিদর্শন করেছেন।

তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা রানা হোসেন বলেন, যশোরে এক শুভাকাঙ্খীর বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ছাদ বাগানে আঙুর গাছ দেখে। ওই আঙুর গাছের ফল তাকে খেতে দেয়। সেই গাছের ফল অনেক সুস্বাদু। তখন তার মনে হয় দেশের মাটিতে এতো সুস্বাদু আঙুর ফল। তখন তার মাথায় ভর করে বাণিজ্যিক ভাবে আঙুর চাষ করবে। ইউটিউব দেখে ও বিভিন্ন ব্যক্তির পরামর্শে ভারত থেকে ২টি জাত(ব্লাক ম্যাজিক, জয় সীডলেস), যশোর থেকে ২টি জাতের( বাইকুনর, অ্যাপোলো) আঙুর চারা সংগ্রহ করে ৪টি জাতের চারা রোপন করে আঙুর বাগান গড়ে তোলে। এখন তার আঙুর বাগানের বয়স ৮মাস। তাতেই ফল ধরেছে থোকায় থোকায়। এ পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে প্রায় ২লাখ টাকা। যা ইতোমধ্যে উঠে এসেছে। এছাড়াও ১০হাজার পিচ কলম চারা তৈরি করেছেন, যা বিক্রি শুরু হয়েছে। এবছরেই ৬লাখ টাকার আঙুর ও ২০লাখৃ টাকার চারা বিক্রির আশা করছেন। ইতোমধ্যে প্রায় ৪লাখ টাকার চারা বিক্রি করেছেন। চলতি মৌসুমে আরো ২বিঘা জমিতে আঙুর চাষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। 

দর্শনার্থী কিতাব আলী বলেন, রানা ভাইয়ের আঙুর বাগান দেখে মনটা ভালো হয়ে গেলো। আমি এই প্রথম আঙুর বাগান দেখলাম। পচুর আঙুর ধরেছে। থোকায় থোকায় ঝুলছে সবুজ আঙুর। আঙুরের ভাবে গাছ ভেঙে পড়ছে। তরুন বেকারদের বসে না থেকে রানা ভাইয়ের পরামর্শ নিয়ে আঙুর বাগান করা উচিত। এর ফলে একদিকে যেমন বেকারত্ব দূরীকরণ হবে অন্যদিকে বিদেশি ফলের আমদানী নির্ভরতা কমে আসবে।

দর্শনার্থী স্বর্ণালী আক্তার বলেন, দেশের মাটিতে নিজ এলাকায় এতো বড় আঙুর বাগান দেখবো তা কল্পনাও করিনি। অনেকটা আগ্রহ নিয়ে উদ্যোক্তা রানার আঙুর বাগানে এসেছিলাম। মাচা পদ্ধতিতে আঙুর চাষ দেখে অনেক ভালো লেগেছে। এভাবে বিদেশি ফলের চাষ বাড়লে ফল আমদানি কমে আসবে এবং কম দামে আমরা ফল খেতে পারবো। 

ব্লক সুপারভাইজার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো সাইফুল ইসলাম বলেন, আঙুর খুবই সম্ভাবনাময় চাষ। রানা হোসেনের বাগানের আঙুরে এখনো কালার আসেনি। এই আঙুরে ভিন্ন কালার আসবে এবং খেতে খুবই সুস্বাদু হবে। দোআঁশ মাটিতে খুবই ভালো হয় আঙুর চাষ। চারা লাগানোর তিন মাসেই ফুল, ফল আসে; ৮/৯ মাসেই ফল সংগ্রহ করা যাবে। 

দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, দামুড়হুদা কৃষিতে সমৃদ্ধ একটা উপজেলা। এ উপজেলায় বিভিন্ন ধরনের নতুন নতুন ফলের আবাদ হচ্ছে। এ উপজেলায় রানা সহ আরো তিনজন উদ্যোক্তা আঙুর চাষ করেছে। তাদের দেখাদেখি অনেকেই উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। যেহেতু বর্ষা মৌসুমের আগেই এই আঙুর উঠে যাবে, সেহেতু ফল নস্ট হবার সম্ভাবনা নেই। এ জন্য উদ্যোক্তারা ভালো ফলন পাবেন। রানা খুবই ভালো উদ্যোক্তা। তাকে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। দেশের মাটিতে আঙুরের চাষ বৃদ্ধি হলে দেশের বাহিরের আঙুরের চাহিদা কমবে।।

বিকে/মান্নান
Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন