Logo

সারাদেশ

বাগেরহাটে অতিবৃষ্টিতে কৃষকের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ

Icon

বাগেরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৫১

বাগেরহাটে অতিবৃষ্টিতে কৃষকের  কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ

বাগেরহাটে বোরো মৌসুমের শেষ সময়ে টানা ভারী বৃষ্টি, বজ্রপাত ও রোদহীন আবহাওয়ায় চরম উদ্বেগে পড়েছেন জেলার হাজারো কৃষক। বৃষ্টির পূর্বাভাস পেয়ে আগাম ধান কাটা শুরু করলেও হঠাৎ টানা তিন দিনের অতিবৃষ্টিতে শেষ রক্ষা হয়নি। জেলার ৬৮ হাজার ১৭১ হেক্টর জমিতে আবাদ হওয়া বোরো ধানের বড় একটি অংশ এখনো মাঠে থাকায় ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা বাড়ছে। কোথাও কাটা ধান ভিজে নষ্ট হওয়ার উপক্রম, কোথাও জমিতে দাঁড়িয়ে থাকা ধান পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, অনেক কৃষক বৃষ্টির আগে ধান কাটলেও রোদের অভাবে তা শুকাতে পারছেন না। আবার যারা ধান কাটতে পারেননি, তাদের ক্ষেতেই জমেছে বৃষ্টির পানি।

এতে ধান ঝরে পড়া, পচন ধরা ও উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কচুয়া সদরের কৃষক মতিয়ার রহমান বলেন, “অনেক কষ্টে ঋণ করে ধান চাষ করেছি। ধান ভালোই হয়েছিল, কিন্তু এই বৃষ্টিতে এখন সব অনিশ্চিত। কিছু ধান কেটেছি, কিন্তু শুকাতে পারছি না। আর যেগুলো মাঠে আছে, সেগুলো নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি।” বাগেরহাট সদর উপজেলার সুগন্ধি গ্রামের কৃষক হাকিম মল্লিক বলেন, “বৃষ্টির খবর পেয়ে শ্রমিক লাগিয়ে ধান কাটতে শুরু করি। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে কাজ বন্ধ। কাটা ধান ভিজে যাচ্ছে, শুকানোর জায়গা নেই। যদি আরও বৃষ্টি হয়, তাহলে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।”

একই এলাকার কৃষক আব্দুল হাকিম শেখ বলেন, “এবার সার, সেচ, শ্রমিক সবকিছুর খরচ অনেক বেশি। ধান ঠিকমতো ঘরে তুলতে না পারলে পুঁজি হারাতে হবে। কৃষকের জন্য এটা বড় ধাক্কা। সরকারি সহায়তা না পেলে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন।”

কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পরও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের এমন ঝুঁকি তাদেরকে চরম অনিশ্চয়তায় ফেলেছে। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলের জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ায় ক্ষতির আশঙ্কা আরও বেশি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বাগেরহাটের অতিরিক্ত উপপরিচালক রমেশ চন্দ্র ঘোষ জানান, জেলায় ৪২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা

হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯ হাজার হেক্টরের ধান কৃষক ঘরে তুলতে পারলেও প্রায় ৩ হাজার হেক্টরের ধান কাটা অবস্থায় মাঠে পড়ে আছে। তিনি বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে প্রায় ১০ শতাংশ ধান ঝরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে দ্রুত বৃষ্টি কমে গেলে এবং রোদ উঠলে ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।”

কৃষি বিভাগ কৃষকদের দ্রুত ধান কাটা, নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ এবং আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিয়েছে।

এদিকে আকাশের দিকে তাকিয়ে এখন প্রহর গুনছেন বাগেরহাটের কৃষকরা। সারা মৌসুমের শ্রম, ঘাম আর বিনিয়োগের সোনালি স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত কতটা ঘরে উঠবে সেই প্রশ্নই এখন জেলার কৃষক সমাজের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।

বিকে/মান্নান


Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন