Logo

সারাদেশ

নেত্রকোনায় কৃষকের যেন দুর্যোগের শেষ নেই

Icon

মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ২১:৩৫

নেত্রকোনায় কৃষকের যেন  দুর্যোগের  শেষ  নেই

নেত্রকোনা মদন উপজেলায় কৃষকের উপর দুর্যোগ-দুর্ভোগ যেন চেপে বসেছে।  চলতি মৌসুমে চৈত্র মাসের শেষের দিকে দু’ধাপে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে শাকসবজি ও বোরোধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ সময় কৃষকদের সান্তনা দিতে একাধিকবার হাওর পরিদর্শন করেন স্থানীয় এমপি লুৎফুজ্জামান বাবর। তখন তিনি কৃষকদের আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের স্বল্প লাভে কৃষিঋণ দেওয়া হবে। 

কিন্তু গত একসপ্তাহে উত্তর থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি ও অতিবৃষ্টিতে মদন উপজেলার বিভিন্ন হাওরে বোরো ফসল ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। বিশেষ করে মাঘান, গোবিন্দশ্রী ও ফতেপুর ইউনিয়নের কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্থ বেশি হয়েছে। যতোটুকু ধান কাটা হয়েছে তাও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ঘরে তুলতে পারছে না। এছাড়াও যা ধান তুলা হয়েছে, তার ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না কৃষকেরা।

কৃষক রহিছ মিয়া জানান, হঠাৎ অতিবৃষ্টি ও পাড়ি ঢলে সব ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। বিগত কয়েক বছর যাবৎ মেশিনে ধান কাটা অভ্যস্থ থাকায় শ্রমিক সংকটে ধান কাটা যায়নি। অতিরিক্ত মজুরি দিয়ে কিছু ধান কেটে ছিলাম, বৃষ্টির কারণে তা ঘরে তুলতে পারছিনা। যারা ধান তুলেছে তাও ৬৫০/৭৫০ টাকা ধরে বিক্রি করতে হচ্ছে। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান মিজান জানান, চলতি বোরো মৌসুমে মদন উপজেলায় ১৭ হাজার ৬শ ৫০ হেক্টর জমি আবাদ হয়েছে। চৈত্র মাসে দু’দফা শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে ২শ ৩২ হেক্টর জমির ফসল ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে। আবার এখন ৭শ ৬০ হেক্টর জমি আগাম বন্যায় আক্রন্ত হয়েছে, এর মধ্যে ২শ ২০ হেক্টর জমি সম্পূর্ণ পানিতে তলিয়ে গেছে। পাট ও শাকসবজির ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৫/৭ হেক্টর। আমরা সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছি। সরকারের নির্দেশ পেলেই আমরা ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরি করব। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-পরিচালক মহোদয়কে নিয়ে মাঘান ইউনিয়নসহ বিভিন্ন হাওর পরিদর্শন করেছি। আগামী ৩ তারিখ থেকে ১৪শ টাকা ধরে সরকারি ভাবে ধান ক্রয় করা হবে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের তালিকা তৈরি হচ্ছে। ক্ষতিপূরণের জন্য ৩ মাস মেয়াদি সরকারি ভাবে পেকেজ নেওয়া হচ্ছে। 

বিকে/মান্নান


Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন