ঝিনাইদহে ঠিকাদারের বালু-পাথরে মহিলা কলেজের প্রবেশমুখ বন্ধ
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ২০:২৭
ঝিনাইদহ শহরের মহিলা কলেজ পাড়ায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে ঝিনাইদহ পৌরসভা। তবে জনস্বার্থে নেওয়া এই উন্নয়ন কাজই এখন সাময়িকভাবে জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে।
জানাগেছে, ঝিনাইদহ-মাগুরা সড়কের এক নম্বর
পানির ট্যাংকির সামনে দিয়ে মহিলা কলেজ ও মহিলা দাখিল মাদরাসায় যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ
এই সড়কের পাশ দিয়ে নতুন ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। কাজের ঠিকাদার মিজানুর রহমান। ইতোমধ্যে
ড্রেন খননের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে কিন্তু ড্রেনের ঢালাই কাজের জন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান
সড়কের প্রবেশমুখে বালু ও পাথর ফেলে রাখায় পুরো রাস্তা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ওই
পথ দিয়ে চলাচলকারী শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
স্থানীয়রা জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক
দিয়ে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু রাস্তার
প্রবেশপথ বন্ধ থাকায় কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে বিকল্প
পথে ঘুরে যাচ্ছেন, আবার অনেকে ঝুঁকি নিয়ে হেটে চলাচল করছেন।
মহিলা কলেজ এলাকার এক বাসিন্দা মো. দুলাল
বলেন, ‘পৌরসভা আমাদের
জন্য ভালো কাজ করছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু ঠিকাদার যেভাবে রাস্তার ওপর বালু-পাথর
ফেলে রেখেছে, তাতে আমাদের চলাচল প্রায় একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে।’
এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা শিক্ষার্থীরা
জানান, ‘তারা প্রতিদিন
রিকশা, ইজিবাইক বা ব্যক্তিগত যানবাহনে করে কলেজে যাতায়াত করেন। কিন্তু প্রবেশপথ বন্ধ
থাকায় এখন বাধ্য হয়ে হেটে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও কষ্ট দুটোই বাড়ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান
চান তারা।’ সুজন কুমার নামের
এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, ‘আমার বাসায় যাওয়ার প্রধান রাস্তা এটি।
রাস্তা বন্ধ থাকায় বিকল্প সড়ক দিয়ে ঘুরে বাসায় যাওয়া লাগছে, এতে ভোগান্তি বেড়েছে।’
ঝিনাইদহ পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা
মো. মুস্তাক আহমেদ জানান, ‘প্রতিবন্ধকতা রেখে ঠিকাদার কোনো কাজ করতে
পারেন না। যদি রাস্তার উপরে তার কাজ করতে প্রয়োজন হয়। তাহলে বিকল্প রাস্তা তৈরি করে
দেবার জন্য সরকারের অপশন থাকে। আমি অফিসে গিয়ে ইঞ্জিনিয়ারদের জানাবো ঠিকাদারের সাথে
কথা বলে এগুলো সরানোর ব্যবস্থা করতে।’
ঝিনাইদহ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. রাশেদ
আলী খান জানান, ১১শ' মিটার কাজ চলছে। ব্যয় প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা। ঠিকাদারের সাথে
কথা বলে রাস্তাটি পরিস্কার করে দেবেন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে ঠিকাদার মিজানুর রহমান মাসুম বলেন,
‘কাজটি আমার নামে
কিন্তু কাজ আমি করছি না। আমার নামে বিএনপি নেতা আক্তারুজ্জামান টেন্ডার দিয়ে কাজটি
পেয়েছে এবং তিনিই কাজটি করছেন। এবিষয়ে আপনি তার সাথে কথা বলেন।’
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সিনিয়র
সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান মোবাইলে জানান, ‘ওই রাস্তা দিয়ে
লোড গাড়ি প্রবেশ করাতে পারছি না। লোড গাড়ি ঢুকলেই রাস্তা ভেঙ্গে গাড়ি পড়ে যাবে।
ড্রেনটি অনেক বড় কোনো স্থানে ৭ ফুট, কোনো স্থানে আবার ৮-৯ ফুট পর্যন্ত গভীর হবে। মাটির জন্য রাস্তাটি আরো বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল এজন্য
আমরা আলাদাভাবে ট্রলিতে করে মাটি সরিয়ে রাস্তা ফাকা করেছি। শুনেছি কলেজে যাতায়াত
করা রিকশা চলাচলের জন্য একটু সমস্যা হচ্ছে। পাথর আর বালি সরিয়ে যে অন্য কোথাও রাখবো
সেই জায়গাটি ওখানে নেই। তারপরও আমি দেখছি যত দূর সম্ভব রাস্তাটি ক্লিয়ার করার।’
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

