Logo

সারাদেশ

‎মিঠাপুকুরে ইট ভাটার ধোঁয়ায় ধ্বংসের মুখে ফসল ও পরিবেশ

Icon

‎মিঠাপুকুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ২০:৩৮

‎মিঠাপুকুরে ইট ভাটার ধোঁয়ায় ধ্বংসের মুখে ফসল ও পরিবেশ

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় ইট ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়া ও গ্যাসে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আবাদি জমির ফসল ও পরিবেশ। উপজেলার ১১ নম্বর বড়বালা ইউনিয়নের একটি ইট ভাটা ইট ভাটার চুল্লি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া ও ক্ষতিকর গ্যাসের কারণে আশপাশের ফসলি জমিতে দেখা দিয়েছে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ভাটার নির্গত ধোঁয়া সরাসরি জমির ওপর পড়ায় ধান, ভুট্টা, কলা, মরিচসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল এবং সবজি ক্ষেত দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে গাছের পাতা পুড়ে যাচ্ছে, ফলন কমে যাচ্ছে এবং জমির উর্বরতাও হুমকির মুখে পড়ছে।

এছাড়াও পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাতাসে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, কাশি ও বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী।

ভুক্তভোগী কৃষক আঃরশিদ, সবুজ মিয়া, আবু বক্কর সিদ্দিক, সামছুল হক সহ অনেক কৃষক জানায়, আমাদের উৎপাদিত ফসলের ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, ইট ভাটার ধোঁয়া থেকে, আনুমানি সব মিলিয়ে ৪০ বিঘার মতো ধান, ভুট্টা, পানের বর, কলা বাগান, মরিচ, সবজি, পটল ঝিঙ্গা, ঢেড়স সহ বসত বাড়ির আঙ্গিনায় রোপন কৃত সিজেনাল ফলজ গাছ।  দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তাদের দাবি, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এসব ইট ভাটার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে ফসলি জমি ও জনস্বাস্থ্য রক্ষা করতে হবে।

কৃষক আলামিন জানায়, আমার ১২ শতাংশের একটা পানের বর, দীর্ঘ ৮ বছর থেকে, এই বর থেকে পান সংগ্রহ করি। এইবার আমার পানের বরজের অবস্থায় খারাপ, সব পাতা ও আগা বিষাক্ত গ্যাসের কারণে ঝলসে গেছে। এই পান ক্ষেত থেকে প্রতি বছর ৮-১০ লক্ষ টাকার পান বিক্রি করে থাকি। ভাটার মালিককে বললে, তিনি কোন গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

কৃষক আতিয়ার রহমান তিনি জানায়, আমার এলাকার ফসল গুলো ধ্বংস করে দিলো, ইট ভাটার বিষাক্ত গ্যাস। যে জমি গুলোতে ৩ মন করে ধান হয়েছিলো, সে জমি গুলোতে ১ মণ ধান হওয়ারও সম্ভবনা নেই। ৩০ শতাংশের ভুট্টা ক্ষেত আছে, যে ভুট্টা পাকতে এখনো ১৫/২০ দিন সাময় লাগবে, সেই ভুট্টা এখন চুপসে আসছে। ভাটা পশ্চিম পাশে যে সমস্ত আবাদি ফসলি জমি আছে সব গুলোর ব্যহাল দশা। পাশাপাশি সেজেনাল মৌসুমী ফল, আম, কাঁঠাল, আমড়া, প্রভৃতি সব গুলো ফলসহ গাছের পাতা পর্যন্ত ঝরে পড়তেছে।

ওই ইউনিয়ন দায়িত্বরত কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তা ইউনুস এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানায়, আমাকে কৃষকেরা ফোন দিয়ে বিষয়টা জানালে সরাসরি স্পটে যাই এবং ঘটনার সত্যতা পাই।

তিনি এই প্রতিবেদকে আরও জানায়, ধান ক্ষেত গুলোর গাছের পাতা পুড়ে গেছে এবং ধানের গাছ গুলো উৎপাদন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে, শুধু এমনিতেই গাছ দাঁড়িয়ে আছে, এমনকি আগাছা যে গুলো থাকে, সেগুলোই পুড়ে গেছে। আর সবজি ক্ষেত ও কলা বাগান গুলোতে আশানুরূপ ফলন আর আসবে না। এটা কোন সংক্রামক রোগ না। আবহাওয়া যদি খরা থাকতো, তাহলে সবগুলো ফসলের ক্ষেত একদম মরে শুকনো খড়ের মতো হতো।

ইট ভাটার মালিকের সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি জানায়, বিষয়টা কৃষক অবগত করার পর মাঠে গেছিলাম, কৃষকের সাথে বসে সমাধান করা হবে।

ওই ইউনিয়ন এর চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলাম স্বপনের সাথে যোগাযোগ করলে, তিনি জানায় স্থানীয় কৃষক বিষয়টি আমাকে অবগত করেছেন।

তিনি আরও জানান, হাট বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে কী ভাবে, এই ইট ভাটাদেরে পরিবেশ ছাড়পত্র কী ভাবে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন