আকাশে মেঘের ঘনঘটা, যেকোনো সময় ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা। এর মধ্যেই একসঙ্গে মাঠের অধিকাংশ ধান পেকে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। ধান দ্রুত কাটতে না পারলে ক্ষতির মুখে পড়ার শঙ্কায় শ্রমিক সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে। ফলে ধান কাটার শ্রমিকের মজুরি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, হঠাৎ করে সব এলাকার
ধান একসঙ্গে পেকে যাওয়ায় শ্রমিকের চাহিদা বেড়ে গেছে। আগে যেখানে প্রতিদিন শ্রমিকের
মজুরি ছিল ৬০০-৭০০ টাকা তবে এই বছরে বেড়ে দাড়িয়েছে।
কৃষক সোহেল মিয়া নামের এক কৃষক জানান,
২৪ কাঠা জমির ধান কাটা হয়েছে। ৮ জন শ্রমিক দিয়ে ধান কাটাতে হয়েছে, যেখানে জনপ্রতি দিনে
১০০০ টাকা করে মজুরি দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, এখন শ্রমিক সংকট এবং অতিরিক্ত মজুরির কারণে
উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে।
এদিকে ধানের বাজারে দেখা দিয়েছে উল্টো
চিত্র। মৌসুমের এই সময়ে ধানের দাম কমে যাওয়ায় কৃষকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
উৎপাদন খরচ বাড়লেও বিক্রির সময় দাম কম থাকায় লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা। আগে ছিলো ধানের
দাম ১১০০-১২০০ টাকা চিকন ধানের দাম ছিলো। এখন
কমে দাড়িয়েছে-৮০০-৯০০ টাকা।
একজন কৃষক বলেন, ধান কাটার জন্য বেশি টাকা
দিয়ে শ্রমিক আনতে হচ্ছে, আবার বিক্রি করতে গেলে দাম পাচ্ছি না। এতে করে আমাদের খরচই
উঠছে না। কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত ধান কাটার ব্যবস্থা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত
না হলে কৃষকদের ক্ষতি আরও বাড়বে। এ পরিস্থিতিতে সরকারি সহায়তা ও বাজার মনিটরিং জোরদারের
দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
জ্বালানি সংকটের কারণে মোকাম থেকে পরিবহন
না আসায় ধানের দাম কমেছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীসহ কৃষকরা। হাট বা ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে
ধান বিক্রি না করে সরকারি সংগ্রহ ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন কৃষকেরা। তাদের মতে, এভাবে
বিক্রি করলে কিছুটা হলেও ক্ষতি কমানো সম্ভব হতে পারে।
চাষিরা জানান, নানা জটিলতা ও হয়রানির কারণে
গুদামে ধান বিক্রিতে আগ্রহ নেই কৃষকদের। স্থানীয় কৃষক মেশারফর হোসেন বলেন, ধানের দাম
বৃদ্ধি না হলে কৃষকেরা মাঠে মারা যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের
ঝুঁকি ও বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে কৃষকরা বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এজন্য
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

