গ্রেপ্তার নেই ছাত্রদল নেতা হত্যা মামলার আসামি
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ২০:৫৭
ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল নেতা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ইমরান হোসেন সোহাগ (২৭) হত্যার এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গত ২ এপ্রিল রাতে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ।
নিহত সোহাগ ঈশ্বরদী শহরের সাঁড়া গোপালপুর
গ্রামের মন্নবীপাড়া এলাকার বাসিন্দা ইমানুল প্রামাণিকের ছেলে। তিনি উপজেলা ছাত্রদলের
প্রস্তাবিত কমিটির সদস্য সচিব এবং জিয়া সাইবার ফোর্সের উপজেলা শাখার সদস্য সচিব হিসেবে
দায়িত্ব পালন করছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের চার দিন পর নিহতের বাবা বাদী
হয়ে ঈশ্বরদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা
আরও ৮-১০ জনকে আসামি করা হয়। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
এজাহার সূত্রে
জানা যায়, জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে গত ২ এপ্রিল রাত পৌনে ১০টার দিকে সাঁড়া
গোপালপুর স্কুল মাঠের পেছনে রেললাইনের পাশে সোহাগকে লক্ষ্য করে হেলমেট পরিহিত একদল
সশস্ত্র দুর্বৃত্ত এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। প্রাণ বাঁচাতে দৌড় দিলে কাছের একটি চায়ের
দোকানের গলিতে তাকে ধরে ফেলে হামলাকারীরা। সেখানে তার মাথা, কপাল, বুকে ও গলায় একাধিক
গুলি করে নিশ্চিত মৃত্যু ঘটিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় তারা। নিহতের বাবা ইমানুল
প্রামাণিক বলেন, ‘আমার ছেলেকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা
করা হয়েছে। এক মাস পার হয়ে গেল, এখনো কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। এটা খুবই হতাশাজনক।
আমি দ্রুত খুনিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ
মো. আশাদুর রহমানকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, ‘মামলাটির তদন্তভার
ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আসামি গ্রেফতারের বিষয়ে তারাই ভালো বলতে পারবেন। এ ব্যাপারে পাবনা জেলা ডিবি'র
অফিসার ইনচার্জ মো. রাশেদুল ইসলামকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, সোহাগ হত্যা মামলার
তদন্তভার পাওয়ার পর থেকেই গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের
শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। খুব শিগগিরই এ মামলার রহস্য উদঘাটন
ও আসামি গ্রেফতারে সক্ষম হবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

