বড়াইগ্রামে অসহায় রোকেয়া বেগমের পাশে ইউএনও
বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ২০:৫৮
মানুষের শেষ ঠিকানা কবর। কিন্তু নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পৌরসভার রোকেয়া বেগমের কাছে এই কবরস্থানই হয়ে উঠেছে জীবনের একমাত্র আশ্রয়। গত ১১ বছর ধরে স্বামীহারা এই বৃদ্ধা বনপাড়া প্রসেফর পাড়া রাস্তার ধারে একটি কবরের পাশে খোলা আকাশের নিচে দিনাতিপাত করছেন। বয়সের ভার আর ভাগ্যের নির্মমতায় এখন তিনি কেবল মৃত্যুর প্রহর গুনছেন।
স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই রোকেয়ার জীবনে নেমে আসে অন্ধকারের ছায়া। মাথা গোঁজার নিজস্ব কোনো ঠাঁই নেই। রোদ-বৃষ্টি কিংবা হাড়কাঁপানো শীত—সবই সইতে হয়েছে এই খোলা আকাশের নিচে। ভালো খাবার তো দূরের কথা, অনেক দিন কেটেছে শুধু পানি খেয়ে। স্থানীয়দের দয়া ও সামান্য সাহায্যেই কোনোমতে টিকে আছে তার প্রাণ।
সম্প্রতি রোকেয়া বেগমের এই মানবেতর জীবনের চিত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। খোলা আকাশের নিচে তার বসবাসের দৃশ্য বিবেকবান মানুষকে নাড়া দেয়। বিষয়টি বুধবার সকালে বড়াইগ্রাম প্রশাসনের নজরে এলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রোকেয়া বেগমের কাছে ছুটে আসেন কর্মকর্তারা। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে একটি হুইল চেয়ার, নগদ অর্থ এবং চাল সহায়তা প্রদান করা হয়।
সবচেয়ে বড় সুসংবাদ হলো, প্রশাসনের পক্ষ থেকে রোকেয়া বেগমকে একটি সরকারি ঘর তৈরি করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, এই অসহায় নারীকে অন্তত একটি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হোক যাতে জীবনের শেষ দিনগুলো তিনি একটু সম্মানের সাথে কাটাতে পারেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “রোকেয়া বেগম যে কষ্টে দিন পার করেছেন তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমরা চাই দ্রুত তার ঘরটি সম্পন্ন হোক এবং তিনি যেন নিয়মিত সরকারি ভাতার আওতায় আসেন।”
১১ বছরের দীর্ঘ লড়াই শেষে রোকেয়া বেগম এখন অপেক্ষায় আছেন একটি ঘরের। প্রশাসন তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলে হয়তো খোলা আকাশ নয়, একটি নিরাপদ ঘরেই শান্তিতে ঘুমাতে পারবেন এই সংগ্রামী নারী।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান,তার এই মানবতার জীবন আমাদের নজরে আসে তাকে হুইল চেয়ার শুকনা খাবার,নগদ টাকা দেওয়া হয়েছে।তার জন্য জায়গা নির্ধারন করে বাড়ি করে দেওয়া হবে।
বিকে/মান্নান

