কোরবানির গরু নিয়ে প্রস্তুত নরসিংদীর হাম্বা ফার্ম
নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ২০:৪৯
আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নরসিংদীর হাম্বা ফার্ম প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করা প্রায় ২২০টি বড় গরু নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে। কাচা ঘাস ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাইয়ে খামারিরা এগুলো প্রস্তুত করেছেন। হাম্বা ফার্মে কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে কোরবানির গরু।
প্রতি কেজির দাম ৬৫০ টাকা। শখের বসে গড়ে তোলা খামার থেকে এবার প্রায় ২২০ টি গরু কেজি দরে বিক্রি হবে। তবে পশুর দাম ও বাজার নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন খামারি। ভারতীয় গরু আমদানি না হলে এ বছর পশু বিক্রি করে কোনোমতে টিকে থাকা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ভিরিন্দা গ্রামের
তরুণ ব্যবসায়ী ইছাদ চৌধুরী শখের বসে ৬ বছর আগে হাম্বা ফার্ম চালু করেন। এবার ২২০টি
গরু মোটাতাজা করেছেন। এছাড়াও নরসিংদী জেলায় ২০২৬ সালের কোরবানির জন্য প্রায় ৮৫ হাজার
৯০৫টি গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে জেলার বিভিন্ন খামারিদের
সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসন্ন কোরবানির ঈদকে ঘিরে প্রতি বছরের মতো এবারও গরু-মহিষসহ
কোরবানির পশু মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে। ঈদ ঘনিয়ে আসায় পশুর যত্নে ব্যস্ত সময় পার করছেন
কৃষক ও গরুর খামারিরা। অনেকে ৬ থেকে ১১ মাস আগে দেশের পশুর বিভিন্ন হাট ঘুরে গরু, মহিষ
ও ছাগল কিনে লালন-পালন শুরু করেন। খামারীদের পাশাপাশি লাভের আশায় পারিবারিকভাবেও অনেক
কৃষক গরু, ছাগল ও মহিষ মোটাতাজা করছেন।
বিশেষ করে গরু মোটাতাজা করা হয়েছে দেশীয়
খাবার খৈল, কুড়া, চালের খুদ, ছোলা, সয়াবিন, ভুষি, কাঁচা ঘাস ও খড় খাইয়ে। মানবদেহের
জন্য ক্ষতিকারক ও পশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কোনো ওষুধ তারা গরুকে খাওয়ান না। কারণ তাতে
গরুর জন্য মৃত্যু ঝুঁকি হতে পারে। যেকোনো মুহূর্তে গরু মারা গেলে লোকসানের আশঙ্কা থাকে।
তবে গো খাদ্যের দাম বাড়ার কারণে পশুর লালন পালন খরচ বেড়েছে বলে জানান খামারিরা।
ফার্মের ম্যানেজার ফারুকুল ইসলাম বলেন,
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরামর্শ অনুযায়ী সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মত ও প্রাকৃতিক উপায়ে
গরুগুলো লালন-পালন করা হচ্ছে।
নরসিংদী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.
ছাইফুল ইসলাম বলেন, এ বছর নরসিংদী জেলায় কোরবানির জন্য ৮৫ হাজার ৯০৫টি গবাদিপশু প্রস্তুত
রয়েছে। জেলার চাহিদা ৭৮ হাজার ৬৪৫টি। অতিরিক্ত প্রায় ৭ হাজার ২৬০টি পশু পার্শ্ববর্তী
জেলার চাহিদা পূরণে সরবরাহ করা হবে। খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

