Logo

সারাদেশ

সাঙ্গু নদীর চরে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব

Icon

বান্দরবান প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ২০:৫২

সাঙ্গু নদীর চরে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব

ধর্মের পবিত্র নামকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সাঙ্গু নদীর চড়ে প্রকাশ্যে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব। এমন চিত্র দেখা মিলেছে জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা ইউনিয়নের ছাইগ্যা পশ্চিম নদীর চড়ে। আর এসব অবৈধ কাজে কথিত বিএনপি নেতা ও সাংবাদিক জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মসজিদের উন্নয়ন” ও ধর্মীয় কাজের” কথা বলে দিনের পর দিন নদী চর থেকে শ্রমিক দিয়ে তোলা হচ্ছে অবৈধ বালু। অথচ বাস্তবে এর অবৈধ অর্থ বড় অংশ যাচ্ছে কথিত ওসমান গণি নামে এক সাংবাদিকসহ সিন্ডিকেটের পকেটে। আর এসব বিষয়ে মুখ খুলতেও ভয় পাচ্ছেন এলাকার বাসিন্দারা।

জানা গেছে, সাঙ্গু নদীর  চরের বালু ব্যক্তিগত মালিকানাধীন দাবি করে ওসমান গণি ৫০ হাজার টাকা বেশী দিয়ে বিক্রি করেছেন। এসবের কাজে রাজনৈতিক পরিচয়ধারী কথিত বিএনপি নেতা নুর মোহাম্মদ, ইব্রাহিমসহ দুই ব্যক্তির অবৈধ বালু উত্তোলনের নাম উঠে এসেছে। একই সাথে অবৈধ কাজের পিছনেও সহযোগী হিসেবে কথিত সাংবাদিক ওসমান গণি নামও জানা যায়। তাদের এই দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট মাধ্যমে দেদ্বারসে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলনে কর্মযজ্ঞ।

এলাকাবাসীরা জানান, গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত চলে বালু উত্তোলন। সারারাত ধরে গাড়ি চলাচলের বিকট শব্দে অতিষ্ট এলাকাবাসী। এছাড়াও দিনরাত বালুবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে বিভিন্ন জায়গায় ভেঙ্গে গেছে সড়ক। শুধু তাই নয়, চর থেকে বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙছে নদীর পাড়, হুমকির মুখে পড়ছে তীরবর্তী বাসিন্দারা। এদিকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে প্রতিবাদ করলেই মিলছে হুমকি-ধমকি। ফলে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘমাস ধরে তারাছা ইউনিয়নের পশ্চিম ছাইগ্যা সাঙ্গু নদীর চড়ে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলনের কর্মযজ্ঞ। মসজিদের পাশ ধরে চলে গেছে সড়কের পথ। দিনের বেলায় বালু উত্তোলনে নিরব থাকলেও রাত থেকে শুরু হয় বালু উত্তোলনের তোরজোর। সেখানে কোন ড্রেজার কিংবা মেশিম নয় বরংচ শ্রমিকদের মাধ্যমে ট্রাকের বালু উত্তোলন করা হয়। এসব বালু নিয়ে সারারাত ধরে ট্রাক চলাচলের অতিষ্ট এলাকার মানুষ।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক পশ্চিম ছাইগ্যা পাড়া বাসিন্দা এক ব্যক্তি বলেন, জায়গাটা নিজস্ব বলে তারা বালু চর থেকে বালু তুলছে। জমিদার বলা চলে তাই কেউ মুখ খুলবে না। নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের পিছনে কথিত নামধারী বিএনপি নেতা নুর মোহাম্মদ, ইব্রাহিম রয়েছে। আর পিছনে শেয়ার আর সহযোগীতা করছেন সাংবাদিক ওসমান ব্যক্তি। আর মসজিদ নাম ভাঙ্গিয়ে অবৈধভাবে রাতে বালু তুলছে।

এ বিষয়ে জানতে মো: ইব্রাহিম সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত নয়। সাংবাদিক ওসমান গণি একা একা বালু তুলছে। আর আপনার সাথে বিকালে যোগাযোগ করতে বলেছি আপনাকে চায়ের দাওয়াত দিবে। বালু উত্তোলনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন সাংবাদিক ওসমান গণি। তিনি বলেন, আমি বালু তুলতেসি আর মসজিদে কিছু দিচ্ছি’ যেহেতু আমি মসজিদের দ্বায়িত্ব আছি।

এ বিষয়ে রোয়াংছড়ি নির্বাহী অফিসার তাজমিন আলম তুলি জানিয়েছে, অভিযোগ পেয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। কাউকে ঘটনাস্থলে পাইনি। আর অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগটি দীর্ঘদিনের। আমরা নজর রাখছি সুযোগ পেলে অভিযান চালিয়ে আইনে আওতায় নিয়ে আসা হবে।

বাংলাদেশের খবর/এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন