শালিখায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি
শালিখা (মাগুরা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ২০:৩৫
মাগুরার শালিখায় আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে দেখা দিয়েছে হাসির ঝিলিক৷ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৩ হাজার ৫শত ৭৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। কৃষকরা আশা করছেন, এক সপ্তাহের মধ্য তাদের কাক্ষিত সোনালী ধান কেটে ঘরে তুলতে পারবেন। কৃষি অফিসে তথ্য মতে শালিখা উপজেলার সাতটি ইউনিয়নেরই ফসলি জমির ধান কেটে ঘরে তুলবে কৃষক। এই ধান ঘরে তুলতে কৃষি বিভাগ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। উপজেলার তালখড়ি ইউনিয়নের নাঘোসা, দেলুয়াবাড়ি, ছান্দাড়া, সোনাডাঙ্গা গ্রামে সবচেয়ে বেশি ধান উৎপাদন হয়ে থাকে। নাঘোসা গ্রামের ধান চাষি আব্দুল কাদের মোল্লা ও গোয়ালখালী গ্রামের কৃষক বাচ্চু মুন্সী জানান, এবার ১২ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছি। গত বোরো মৌসুমে ১১ বিঘা জমিতে ধান চাষ করে ছিলাম। এবার আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ধানও খুব ভালই হয়েছে। প্রতিটি শীষ ক্ষেতে সোনার মত ঝিলিক মারছে। কিন্তু বাজারে ধানের দাম খুবই কম। যদি ভাল দাম পায় তাহলে এ বছর লাভবান হতে পারবো। আড়পাড়া গ্রামের ধান চাষি বিদ্যুৎ মন্ডল জানান, এবার ১ একর জমিতে ধানের চাষ করেছি। এর মধ্যে ব্রি-২৮ জাতের ধান আছে ৪০ শতক ও বাকি ৬০ শতাংশ জমিতে রড মিনিকেট জাতের ধান চাষ করেছি। ফলনও ভাল হয়েছে। এবার স্বপ্ন দেখছি ভাল দামের। চুকিনগর গ্রামের রাজিব মন্ডল বলেন, এবছর ৩ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি৷ ধানের খুবই ভালো ফলন হয়েছে৷ তবে ধানের দাম কম আবার ধান কাটার শ্রমিকের মজুরি একটু বেশি । মাথা পিছু শ্রমিককে দেওয়া লাগছে ১১০০ শ থেকে ১২০০ শ টাকা। তবে গ্রামের শ্রমিক ৮০০ শ থেকে ১০০০ টাকা করে৷ নিরব মন্ডল,শরিফুল ইসলাম,ফয়সাল মোল্যা,সিতান্ত রায়,উদ্যোগ মন্ডল সহ আরও কয়েকজন ধান কাটা শ্রমিক বলেন, এবছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় কৃষকদের ধান ভালো ফলন হয়েছে৷ এছাড়া আমরা শ্রমিকরাও মাথাপিচু দিন ১২/১৩ শ টাকা করে নিচ্ছি৷ সরেজমিনে উপজেলার আড়পাড়া,চুকিনগর,শতখালী,সীমাখালী,বুনাগাতী,
গঙ্গারামপুর সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি এলাকায় কম বেশি বোরো ধান কাটা প্রায় শেষ হয়েছে। বর্তমানে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় নির্বিঘ্নে ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর কাজ করতে পারছেন কৃষাণ -কৃষানিরা। সোনালি ধানের ম-ম গন্ধে মনের আনন্দে কাজ করছেন তাঁরা। কথা বলার মতো যেন ফুরসত নেই তাঁদের। এসব ধান নিয়ে কৃষক কৃষাণী যেমন ব্যস্ততা, তেমনি আনন্দও লক্ষ করা যাচ্ছে তাদের মাঝে। কৃষকের ধান কাটার আনন্দ গ্রীষ্মের প্রচন্ড গরম কেও হার মানিয়েছে। শালিখা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ আবুল হাসনাত বলেন, শালিখা উপজেলায়
২০২৪-২৫ অর্থ বছরে বোরোধান আবাদ হয়েছিল ১৩,৫,৭৫ হেক্টর এবং গড় ফলন ছিলো ৪.৮ টন/হেক্টর। বর্তমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও ১৩,৫,৭৫ হেক্টর জমিতে বোরোধান চাষাবাদ হলেও এবছর উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল জাতের চাষাবাদ বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং আবহাওয়া বোরোধান চাষাবাদের অনুকূলে থাকায় ফলন গত বছরের তুলনায় এবছর বৃদ্ধি পাবে বলে মনে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই কৃষকদের সঠিক পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবছর বোরো ধানের ফলন ভালো হয়েছে।
বিকে/মান্নান

