জলাবদ্ধ টরকী-বাসাইল খাল এখন জীবাণুর ভাণ্ডার
গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ২১:০০
বরিশাল জেলার গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া—দুই উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ টরকী-বাসাইল খাল এখন মরণঘাতী জীবাণুর ভাণ্ডারে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দখলমুক্ত ও পুনঃখননের দাবি জানিয়ে আসলেও কার্যত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি স্থানীয় প্রশাসন।
দীর্ঘদিন খাল খনন না করায় খাল ও সংযুক্ত নদীর নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে নদী থেকে খালে পানি প্রবেশ করছে না। এ ছাড়া বিভিন্ন জায়গায় অবৈধ বাঁধ, অপরিকল্পিত ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, খালের জায়গা দখল করে কাঁচা-পাকা স্থাপনা নির্মাণ এবং নির্বিচারে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে খালটির আজ এই বেহাল দশা।
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ইংরেজ শাসনামলে মাদারীপুর মহকুমার তৎকালীন প্রশাসক মি. জিটি ডনোভানের উদ্যোগে খালটি খনন করা হয়। একসময় এই খাল দিয়েই এলাকার কৃষিসেচ, দেশীয় প্রজাতির মাছের জোগান ও নৌ-যোগাযোগ চলত।
সরেজমিনে দেখা গেছে, খালের পানি কুচকুচে কালো। পানির ওপরে ভাসছে প্লাস্টিক, পলিথিন, বোতল ও গৃহস্থালি বর্জ্য। দুই উপজেলার দুই পাড়ের অধিবাসীদের অধিকাংশই টয়লেট নির্মাণ করে পরোক্ষভাবে বর্জ্য খালে ফেলছেন। এ ছাড়া পোল্ট্রি ও গরুর খামারের বর্জ্য সরাসরি খালে ফেলাসহ পুরো খালটিকে এলাকাবাসী ময়লার ভাগাড় হিসেবে ব্যবহার করছে।
খালের দুই পাড়েই গড়ে উঠেছে অসংখ্য জনবসতি। পাশাপাশি রয়েছে মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির ও প্রাথমিক-মাধ্যমিক বিদ্যালয়। প্রতিদিন শত শত শিশু-কিশোর এই দূষিত খালের পাড় দিয়ে যাতায়াত করে। খালের দুর্গন্ধ ও মশা-মাছির কারণে গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া দুই উপজেলার মানুষই ডায়রিয়া, আমাশয়, চর্মরোগ, ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন।

