Logo

সারাদেশ

কোরবানির হাটের আগেই খামারে ক্রেতাদের ভিড়, ব্যস্ত খামারিরা

Icon

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ২১:১৫

কোরবানির হাটের আগেই খামারে ক্রেতাদের ভিড়, ব্যস্ত খামারিরা

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার খামারগুলোতে এখন চলছে বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়। মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গবাদিপশু লালন-পালন, পরিচর্যা ও বাজারজাতকরণে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন খামারিরা।

উপজেলার বিভিন্ন খামার ঘুরে দেখা গেছে, প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণে এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন খামার মালিকরা। ক্ষতিকর ইনজেকশন, স্টেরয়েড কিংবা ওষুধের ব্যবহার এড়িয়ে দেশীয় খাদ্য ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে সুস্থ ও হৃষ্টপুষ্ট পশু প্রস্তুত করা হচ্ছে কোরবানির বাজারের জন্য।

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার তথ্যমতে, রূপগঞ্জ উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৮ শতাধিক খামারে সাড়ে আঠারো হাজারেরও বেশি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে 

ব্রাহমা, হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান,সাহিওয়াল,জার্সিসহ বিভিন্ন যাতের গরু,মহিষ,ছাগল,ভেড়া ও দুম্বা। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত পশু রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকাতেও সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, অনেক খামারে আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে পশু পালন করা হচ্ছে। কোথাও পাকা শেড, কোথাও পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ও গরম থেকে স্বস্তি দিতে ফ্যানের ব্যবস্থাও রয়েছে। পশুর খাদ্য তালিকায় রাখা হয়েছে খড়, ভুসি, খৈল, সবুজ ঘাস, ভুট্টা ও বিভিন্ন দেশীয় পুষ্টিকর খাদ্য। নিয়মিত চিকিৎসা ও পরিচর্যার মাধ্যমে পশুগুলোকে সুস্থ রাখা হচ্ছে।

রূপগঞ্জের ড্রাগন এগ্রো ফার্ম-এর ম্যানেজার  বলেন, আমাদের এবার কুরবানির জন্য ৭০ টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। আমরা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজা করছি। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ইনজেকশন বা স্টেরয়েড ব্যবহার করা হয় না। দেশীয় খাবার ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে পশু বড় করা হচ্ছে। এতে খরচ কিছুটা বেশি হলেও পশু সুস্থ থাকে এবং ক্রেতারাও নিরাপদ মাংস পান।

ফার্মটির কর্মচারী শাকিল মিয়া জানান,প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পশুর যত্ন নিতে হয়। নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী খাবার দেওয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। ঈদ সামনে রেখে এখন কাজের চাপ অনেক বেড়ে গেছে।

ভুলতা এলাকার খামারি আনিছ মিয়া জানান,দেশীয় খামার এখন আগের চেয়ে অনেক এগিয়েছে। ভারতীয় গরুর আমদানি কমে যাওয়ায় দেশীয় পশুর চাহিদা বেড়েছে। আমরা চেষ্টা করছি ক্রেতাদের ভালো ও স্বাস্থ্যসম্মত পশু দিতে।

আমলাবো এলাকার আরেক খামারি তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমাদের খামারে প্রতিটি পশুর আলাদা যত্ন নেওয়া হয়। গরমের কারণে পশু যাতে অসুস্থ না হয় সেজন্য পর্যাপ্ত বাতাস ও পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ক্রেতারাও এখন প্রাকৃতিকভাবে মোটাতাজা করা পশুর প্রতি বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

খামারগুলোতে এখন ক্রেতাদের আনাগোনাও বেড়েছে। অনেকেই আগেভাগেই খামারে এসে নিজেদের পছন্দের পশু বেছে নিচ্ছেন। কেউ কেউ দাম নির্ধারণ করে আগাম বুকিংও দিয়ে যাচ্ছেন

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সজল কুমার দাস বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে রূপগঞ্জ উপজেলার খামারগুলোতে এবার প্রায় সাড়ে আঠারো হাজার গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ক্ষতিকর ওষুধ বা ইনজেকশন ব্যবহার না করার বিষয়ে খামারিদের সচেতন করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে আমাদের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকাতেও রূপগঞ্জ থেকে কোরবানির পশু সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি। 

বিকে/মান্নান


Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন