রেড স্পাইডার ও লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত মাধবপুরের চা শিল্প
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ২০:৪৯
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার চা বাগানগুলোয় লাল মাকড়শা (রেড স্পাইডার) নামে পরিচিত ক্ষতিকর পোকার ব্যাপক আক্রমণ এবং অব্যাহত লোডশেডিংয়ের কারণে চা শিল্পে চরম সংকট দেখা দিয়েছে। উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় বাগান মালিকরা আর্থিক চাপে পড়েছেন, হাজারো শ্রমিকের জীবিকা হুমকির মুখে।
উপজেলার সুরমা, জগদীশপুর, তেলিয়াপাড়া, বৈকুণ্ঠপুর ও নোয়াপাড়াসহ অন্তত পাঁচটি বড় চা বাগান এখন রেড স্পাইডারের আক্রমণে আক্রান্ত। এই পোকা চা গাছের কচি পাতা শুষে খেয়ে শুকিয়ে দিচ্ছে। গাছের সবুজ পাতা লালচে ও কালচে হয়ে যাচ্ছে, নতুন পাতা গজানো কমে গেছে। ফলে চলতি ভরা মৌসুমে (মে মাস থেকে) চা উৎপাদন আশানুরূপ হচ্ছে না।
সুরমা চা বাগানের ম্যানেজার বাবুল কুমার সরকার বলেন, “অন্যান্য বছর এই সময়ে প্রচুর পাতা সংগ্রহ করা যেত। এবার উৎপাদন অনেক কম। অথচ ২ হাজার ২০০ শ্রমিকের রেশন, মজুরি ও অন্যান্য খাতে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৫০ লাখ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। উৎপাদন খরচ বাড়ছে, কিন্তু বাজারে চায়ের দাম সে অনুপাতে বাড়েনি।”
বিদ্যুৎ সংকট এই সংকটকে আরও তীব্র করেছে। নিয়মিত লোডশেডিংয়ের কারণে বাগানের কারখানাগুলোয় চা প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যাহত হচ্ছে। কাঁচা পাতা আসছে, কিন্তু মেশিন চালানো যাচ্ছে না। ফলে বিপুল পরিমাণ পাতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
জগদীশপুর চা বাগানে সরেজমিন দেখা গেছে, কারখানার অধিকাংশ মেশিন বন্ধ। শ্রমিকরা অলস বসে সময় কাটাচ্ছেন। বাগানের কর্মচারী পলাশ জানান, “প্রতিদিন বাগান থেকে কাঁচা পাতা আসছে। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় প্রক্রিয়াজাত করা যাচ্ছে না। এতে প্রতিনিয়ত ক্ষতি বাড়ছে।”
নোয়াপাড়া চা বাগানের কারখানা গত তিন বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। একাধিকবার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। তেলিয়াপাড়া ও বৈকুণ্ঠপুর বাগানেও একই ধরনের সমস্যা বিরাজ করছে।
চা শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেড স্পাইডার নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা (আইপিএম), নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং সরকারি প্রণোদনা না পেলে এই অঞ্চলের চা শিল্প আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়বে। হাজারো শ্রমিকের কর্মসংস্থান হুমকিতে পড়বে এবং দেশের সামগ্রিক চা উৎপাদনও কমে যাবে।
তারা সরকারের কাছে সহজ শর্তে ঋণ, বিশেষ প্রণোদনা এবং পোকা দমনে কার্যকর ওষুধ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন।
বিকে/মান্নান

