অবশেষে চালু হচ্ছে ১০০ শয্যার কুমিল্লা শিশু হাসপাতাল
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ২০:০৪
কুমিল্লা শিশু হাসপাতাল
প্রায় দুই বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে চালু হতে যাচ্ছে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট কুমিল্লা শিশু হাসপাতাল। হাসপাতালটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় দ্রুত চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও প্রয়োজনীয় আসবাব,
চিকিৎসক, নার্স, অন্যান্য জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জামের বরাদ্দ না আসায় হাসপাতালটি চালু
নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল এতদিন। এ ছাড়া এটি পরিচালনা
নিয়ে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এবং কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) কর্তৃপক্ষের টানাপোড়েনও
চলছিল।
গত ১০ মে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের
সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে হাসপাতালটি চালুর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর
নির্দেশের পর ১১ মে কুমিল্লা শিশু হাসপাতাল চালুর বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বৈঠক
শেষে কুমেক হাসপাতালের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. শাহজাহান নতুন করে চাহিদাপত্র
জমা দেন।
জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে
জানা গেছে, জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার বেলতলী এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে তিন
একর জায়গায় ২০২০ সালে তিনতলা ১০০ শয্যার শিশু হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায়
৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২৪ সালের জুনে কাজ শেষ করে এম এন হুদা কনস্ট্রাকশন। কাজ শেষে
ভবন হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হলেও দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ না হওয়ায়
বিষয়টি ঝুলে যায়।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের একটি সূত্র জানায়,
কুমিল্লাসহ দেশের ছয়টি জেলায় ৩২০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে ছয়টি হাসপাতাল ভবন নির্মাণ
হলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার এসব হাসপাতাল
চালুর বিষয়ে উদ্যোগ নেয়নি। গত ১০ মে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক
জরুরি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর ছয়টি হাসপাতাল চালুর বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ
সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর তোড়জোড় শুরু হয়।
কুমেক হাসপাতালের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত)
ডা. মো. শাহজাহান বলেন, কুমিল্লা শিশু হাসপাতাল চালু করতে মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় জনবল,
শিশুদের এনআইসিইউসহ আধুনিকমানের চিকিৎসা সরঞ্জামের চাহিদাপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। এটি
চালু হলে কুমেক হাসপাতালের শিশু বিভাগ ও জেনারেল (সদর) হাসপাতালে শিশু রোগীর চাপ কমবে।
ঢাকায় না গিয়েও কুমিল্লাসহ আশপাশের জেলার শিশু রোগীরা উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবে।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কুমিল্লার
নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল খায়ের বলেন, নির্ধারিত সময়ে এই হাসপাতালের নির্মাণকাজ সম্পন্ন
হয়েছে। তবে এখনো কোনো দপ্তর ভবনটি বুঝে নেয়নি। নির্মাণকাজের সঙ্গে আসবাব বা সরঞ্জাম
ধরা নেই। এগুলোর জন্য পরবর্তী সময়ে আলাদা দরপত্র হবে। সরকার চাইলে যে কোনো সময়ে বরাদ্দপ্রাপ্তি
সাপেক্ষে হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব।
কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডা. আলী নুর মোহাম্মদ
বশীর আহমেদ বলেন, শিশু হাসপাতাল চালুর বিষয়ে আমরা প্রতীক্ষায় ছিলাম। ইতোমধ্যে জেলা
স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ে জনবলসহ চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি। ভবনটি বুঝে নিতে
আমাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

