কালীগঞ্জে ঘূর্ণিঝড়ে তছনছ আওড়াখালি বাজার
কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ২০:১০
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের আওড়াখালি বাজার এলাকায় রোববার (১৭ মে) দিবাগত গভীর রাতে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসার টিনের চাল উড়ে গেছে, ভেঙে পড়েছে দেয়াল, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কয়েকটি দোকানপাট এবং উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা। এতে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
সোমবার (১৮ মে) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা
যায়, আওড়াখালি বাজার ব্রিজ সংলগ্ন মতিউর রহমান আকন্দের ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত মাদ্রাসাতুল
নূর আল ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার টিনের চাল ঝড়ে উড়ে পাশের খাদে গিয়ে পড়ে। ভবনের
চারপাশের ইটের দেয়ালও ভেঙে গুঁড়িয়ে গেছে। এছাড়া বাজারের একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের
টিনের চাল উড়ে গেছে। বিভিন্ন সড়কে গাছপালা ভেঙে পড়ে থাকায় রাত থেকেই পুরো জাঙ্গালিয়া
এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা জাকির হোসেন
বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানের আরেকটি ক্যাম্পাস বাজারের দক্ষিণ পাশে রয়েছে। রাতে অধিকাংশ
শিক্ষার্থী সেখানে অবস্থান করছিল। ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছি। আল্লাহর
অশেষ রহমতে কোনো শিক্ষার্থী হতাহত হয়নি। আজমতপুর গ্রামের বাসিন্দা ফয়জুল্লাহ খান বলেন,
সকালে বাজারে এসে দেখি বেশ কয়েকটি দোকানের চাল উড়ে গেছে। মাদ্রাসাটিও মারাত্মকভাবে
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমার ৩৮ বছরের জীবনে এমন ভয়াবহ ঝড় দেখিনি।
আওড়াখালি বাজারের ব্যবসায়ী ডা. হেলাল উদ্দিন
বলেন, রাত আড়াইটার দিকে ঝড়ো বাতাস ও বজ্রপাতের শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। প্রচণ্ড ঝড়ে আমার
বড় ভাইয়ের দোকানের চাল উড়ে গেছে। বাজারের আরও কয়েকটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বড়াইয়া
গ্রামের আনিসুর রহমান জানান, ঝড়ের সময় তার বাড়ির পাশের একটি বড় গাছ সড়কের ওপর পড়ে যায়।
এতে প্রায় তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে স্থানীয়রা গাছ সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক
হয়।
জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক আবুল
হোসেন আকাশ বলেন, ঘটনার খবর পেয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে তালিকা প্রস্তুত
করা হবে। পরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্তদের
সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)
এটিএম কামরুল ইসলাম বলেন, ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি আমরা জেনেছি। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে
ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা
প্রদান করা হবে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

