কোরবানির পশু প্রস্তুতে ব্যস্ত সীতাকুণ্ডের খামারিরা
সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ২০:১৩
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় খামারিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন কোরবানির উপযোগী গরু মোটা-তাজাকরণ ও পরিচর্যায়। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে দেশীয় খাবার খাইয়ে পশু প্রস্তুত করছেন তারা; যেখানে কোনো ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য বা ক্ষতিকর ওষুধের ব্যবহার নেই।
দেশি জাতের গরু ও মহিষের পাশাপাশি সিন্ধি,
শাহিওয়ালসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের পশু বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। উপজেলার
প্রায় ৪০০ খামারে চলতি মৌসুমে কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হচ্ছে।
বড় পরিসরের খামারের মধ্যে রয়েছে এলাইড এগ্রো, চৌধুরী
এগ্রো ও রুপালি এগ্রো। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর সীতাকুণ্ডে
কোরবানির পশুর চাহিদা প্রায় ৪১ হাজার। এর বিপরীতে বর্তমানে প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ৪৪
হাজার পশু। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় প্রায় তিন হাজার পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।
সরাসরি খামার পরিদর্শনে দেখা যায়, উপজেলার
মুরাদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মুরাদপুর গ্রামে ‘এলাইড এগ্রো’ খামারে চলছে
শেষ সময়ের প্রস্তুতি। খামারের স্বত্বাধিকারী মো. নুরুল আজম জানান, প্রাণিসম্পদ দপ্তরের
পরামর্শে খড়, কাঁচা ঘাস, খৈল, ডালের ভুসি, কুড়া ও অন্যান্য প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে ১০০টি
গরু ও মহিষ মোটা-তাজা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি গরুর প্রতিটির সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য
৩ লাখ থেকে ৪ লাখ টাকা। প্রতিটি গরুর ওজন প্রায় ৭ থেকে ৯ মণ। ভারত বা অন্য দেশ থেকে
গরু না এলে এবার কোরবানির হাটে ভালো দাম পাওয়া যাবে বলে আশা করছি। প্রতিদিনই ক্রেতারা
খামারে গরু দেখতে আসছেন এবং প্রতিদিন এক-দুটি করে বিক্রি হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৪০টি
গরু বিক্রি হয়েছে। এবার প্রায় ১০–১২ লাখ টাকা লাভ হবে বলে আশা করছি।
২০২১ সালে শখের বসে ছোট পরিসরে শুরু হলেও
এখন খামারটি তিন একর জমিতে বিস্তৃত। বর্তমানে খামারে ৩০টি গাভী রয়েছে, যেগুলো থেকে
প্রতিদিন ১৮০–২০০ লিটার দুধ
সংগ্রহ করা হয়। রয়েছে একটি বায়োগ্যাস প্লান্ট, যেখান থেকে ৫০টি পরিবারে জ্বালানির সংযোগ
দেওয়া হচ্ছে। খামারে কর্মরত আছেন ১০ জন শ্রমিক।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কল্লোল
বড়ুয়া জানান, এ বছর সীতাকুণ্ডে কোরবানির পশু বিক্রয়ে প্রায় কয়েকশ কোটি টাকার লেনদেন
হতে পারে। গরু মোটা-তাজাকরণে খামারিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা প্রাকৃতিক
উপায়ে পশু প্রস্তুত করেন। স্টেরয়েড, পাম ট্যাবলেট ও ডেক্সামেথাসনের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক
ব্যবহারের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। এসব ব্যবহারে পশু ফুলে-ফেঁপে ওঠে এবং সেই
মাংস খেলে মানুষের কিডনি, লিভার ও হৃদযন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। কেউ এ ধরনের
কাজ করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
চট্টগ্রাম শহরের কাছাকাছি হওয়ায় সীতাকুণ্ডে
প্রতি বছরই কোরবানির পশুর চাহিদা বেশি থাকে। বাজার স্থিতিশীল থাকলে খামারিরা ভালো দামে
গরু বিক্রি করতে পারবেন এবং চামড়ার ন্যায্য মূল্য পেলে তারা আরও লাভবান হবেন বলে আশা
করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

