মিঠাপুকুরে অ্যালকোহল পানে ৩ জনের মৃত্যু
মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ২১:০৯
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বালারহাট এলাকায় নিষিদ্ধ অ্যালকোহল পান করার পর পরেই, রোববার মধ্যে রাতেই দুই ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা ঘটে এবং সোমবার রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরেক ব্যক্তি মৃত্যু বরণ করেন অপরদিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় একজন এখনো চিকিৎসাধীন আছে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যে ও উদ্বেগে সৃষ্টি হয়েছে।
মৃত ব্যক্তিরা হলেন, উপজেলার কাফ্রীখাল
ইউনিয়নের সাতভেন্টি এনায়েতপুর গ্রামের মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে ছাত্তার মিয়া (৫০)
এবং একই ইউনিয়নের বুজরুক ঝালই এলাকার মৃত মতিয়ার মিয়ার ছেলে হুজুর আলী (৪৫) দু'জনেই
মধ্যপান করে মৃত্যু বরণ করেন। একজন বাড়িতে এতে মৃত্যু বরণ করেন, অপরজন চিকিৎসাধীন অবস্থায়।
অপর দুই ব্যক্তি
গুরুতর অসুস্থ হলে, উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো
হয়।
অসুস্থ ব্যক্তিরা হলেন, বুজরুক ঝালই পাকারমাথা
এলাকার মৃত সুলতান আলীর ছেলে এরশাদ মিয়া (৪০) এবং সংগ্রামপুর বেলতলা এলাকার মৃত কফুর
উদ্দিনের ছেলে সাজু মিয়া (৫৫)। অসুস্থ দুই ব্যক্তির মধ্যে, রংপুর
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়, দুপুর আনুমানিক ২:৫০ মিনিটে সাজু মিয়া
(৫৫) নামে'র ব্যক্তি মৃত্যু বরণ করেন। বিষয় নিশ্চিত করেছেন, তার পরিবার। সাজু মিয়া
সংগ্রামপুর বেলতলা এলাকার মৃত কফুর উদ্দিনের
ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে
বালারহাট বাজার এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি একসঙ্গে নিষিদ্ধ অ্যালকোহল পান করেন। এরপর
তারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের
শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। একপর্যায়ে দুইজনের মৃত্যু হয় এবং অপর দুইজনকে আশঙ্কাজনক
অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, অসুস্থদের প্রথমে
স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলেও অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হুজুর আলীর মৃত্যু হয়। অপরদিকে
ছাত্তার মিয়া কয়ারমারি গুচ্ছগ্রামে নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন।
জানা গেছে, ছাত্তার মিয়া তার দ্বিতীয়
স্ত্রীর সঙ্গে কয়ারমারি গুচ্ছগ্রামে বসবাস করতেন। মৃত্যুর পর তার মরদেহ এনায়েতপুর
সাতভেন্টি এলাকায় বোন মোছাঃ আকলিমা বেগমের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার খবর ছড়িয়ে
পড়লে এলাকাবাসীর মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
(ইউএনও) এবং মিঠাপুকুর থানার ওসি (তদন্ত) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য
সংগ্রহ করেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ মাইদুল
ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তারা মদ্যপানের কারণেই মারা গেছেন। তবে বিষয়টি
তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত এড়ানোর চেষ্টা
করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)
এরশাদ হোসেন বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে
তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় অবৈধভাবে মাদক
ও নিষিদ্ধ অ্যালকোহল বিক্রির বিরুদ্ধে আরও কঠোর নজরদারি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান
জোরদার করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা আর না ঘটে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

