Logo

সারাদেশ

পৃষ্ঠপোষকতা পেলে

খোকসা জমিদার বাড়ি হতে পারে দর্শনীয় পর্যটনকেন্দ্র

Icon

মনোজিত মন্ডল, খোকসা

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ২০:৫৭

খোকসা জমিদার বাড়ি হতে পারে দর্শনীয় পর্যটনকেন্দ্র

খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে আছে জমিদারি সমাজ ব্যবস্থা প্রথা এক রাজ সাক্ষী ভবন । সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেলে জমিদার বাড়ি হতে পারে দর্শনীয় পর্যটন কেন্দ্র। ভবিষ্যৎ  প্রজন্ম  জমিদারি সমাজ ব্যবস্থা প্রথা সম্পর্কে বাস্তবে জ্ঞান অর্জন করতে পারে।

কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলার গড়াই নদীর তীরবর্তী ওসমানপুর গ্রামে অবস্থিত ১৫০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী জমিদার পঞ্চানন রায় সাহা ও জ্যোত্যিষ চন্দ্র সাহার বাড়ি যা স্থানীয়ভাবে "আজব বাড়ি" হিসেবে পরিচিত। ( স্থানীয়দের মতে ১৫০ বছর আগে এতদ অঞ্চলে কুমারখালীতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছারি বাড়ি ছাড়া অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণশৈলী চোখে পড়ে না) খোকসা উপজেলা সদরের  অ-দূরে  আনুমানিক ২ কিমি দূরে অবস্থিত এই অপূর্ব নির্মাণশৈলী। সুনিপুণ নির্মাণশৈলী ও প্রাচীন ঐতিহ্যে শুনশান  নীরবতা আর  লতা পাতায় মোড়ানো  বাড়িটি স্থানীয়ভাবে একটি দর্শনীয় স্থান।

এটি এক সময়ে স্থানীয় জমিদারি কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। দুই ভাই পঞ্চানন রায় সাহা ও জোত্যিষ সাহার প্রায় ৭৫০ বিঘা জমি ছিল। পঞ্চানন রায় সাহা ছিলেন বড়। পঞ্চানন বাবুর  দুই পুত্র ছিলো ফটিক সাহা  ও ফনি সাহা। ছোট ভাই জোত্যিষ সাহার একমাত্র পুত্র বিজয় সাহা বিবাহের পরপরই মারা যান। জমিদারি ব্যবস্থা বিলুপ্তির পর পরই তারা এলাকা থেকে চলে যান। প্রায় দুই একর জমির ওপর নির্মিত এই জমিদার বাড়িটি তৎকালীন স্থানীয় রাজমিস্ত্রি ফরমান সরয়ার্দী ও লালচান মিয়ার নকশা ও কারুকাজে নির্মিত হয়।

বাড়িটি নির্মাণে দুই বছর সময় লেগেছিল এবং এটি ছিল আশেপাশের এলাকার সবচেয়ে রাজকীয় বাড়ি। বর্তমানে এই ঐতিহাসিক বাড়িটি প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত। পরিবারের উত্তরসূরীরা পূর্বপুরুষের স্মৃতি রক্ষার্থে একজন তত্ত্বাবধায়ক রেখেছেন। তবে সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ কিংবা সংশ্লিষ্ট বিভাগের কোনো উদ্যোগ না থাকায় বাড়িটি ধীরে ধীরে বিলীন বা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে।

হাজারো ঘটনার সাক্ষী এই দৃষ্টিনন্দন জমিদার বাড়ি সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে এটি কুষ্টিয়া- ঝিনাইদহ জেলার পর্যটকদের আকৃষ্ট করবে। ঠাঁই পাবে দর্শনীয় স্থান হিসেবেও। স্থানীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্য  রক্ষায় সরকারের জরুরীভাবে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে স্থানীয়রা ও জেলা শহরের মানুষেরা দৈনিক বাংলাদেশের খবর পত্রিকার প্রতিনিধিকে জানান।

জমিদারের বংশধর উত্তম কুমার রায় বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষদের জমিদারি ঐতিহ্যবাহী বাড়িটি দেখতে এখনো দেশ বিদেশ থেকে লোক আসে। আমাদের খুব ভালো লাগে। আমরা মাঝে মাঝে বাড়িতে যাই। ঐতিহাসিক সেই দিনগুলির কথা এখনো মনে পড়ে।

ওসমানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওহিদুল ইসলাম ডাবলু বলেন, জমিদার বাড়িটি এখনো ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তি। প্রতিদিন পর্যটকরা আসেন। জমির মালিকরা মনে করলে বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন।

গণমাধ্যম কর্মী উজ্জ্বল কুমার রায় বলেন, কুষ্টিয়া জেলা সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে খোকসা উপজেলায় রয়েছে খোকসা কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি, ইউটিউব ভিলেজ, জমিদার বাড়ি, গোপগ্রাম পদ্মার কোল, হিজলাবট লাল তেতুল গাছ, মুঘল আমলে প্রতিষ্ঠিত ফুলবাড়ী মঠ সহ এইসব জায়গায় পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুললে একদিকে বিনোদন এবং অন্যদিকে  অর্থনৈতিক দিক থেকেও লাভবান হওয়া যাবে।

খোকসা উপজেলার নির্বাহী অফিসার  মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, জমিদার বাড়িসহ খোকসায় অনেক জায়গায় বৈচিত্র্যময়। এই জমিদার বাড়ি অনেক পুরোনো। ঐতিহ্যময় বাড়িতে দেখতে এখনো বহু দূর দুরান্ত থেকে ভ্রমণ পিপাষু পর্যটক আসেন। বর্তমান সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী কুষ্টিয়া জেলার পাশেই মাগুরা জেলার কৃতি সন্তান। এ ধরনের ঐতিহ্যময় নির্মাণশৈলী সংরক্ষণে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এটা জরুরী পদক্ষেপ হিসেবে গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানাবো।

কারণ আগামীতে এ এলাকাকে কালচারাল হেরিটেজ জোন হিসেবে ঘোষণা হতে পারে। কুমারখালী, খোকসাসহ এ এলাকার গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ শৈলী, অনন্য  প্রতিষ্ঠান, স্মৃতিস্পর্শ স্থানসহ প্রায় ৩০ জন জাতীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত, উপমহাদেশ এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে খ্যাতিমান ব্যক্তিদের জন্মস্থান বা কর্মস্থান বলে বিবেচিত।

বাংলাদেশের খবর/এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন