বাজেটকে যারা জনবিরোধী বলেন তারা বন্ধু না: প্রধানমন্ত্রী
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১৫:৩৯
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যারা জনগণের কল্যাণে করা বাজেটকে ‘গণবিরোধী’ কিংবা ‘চানাচুরের বাজেট’ বলে আখ্যা দেয়, তারা কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে না। জনগণের জন্য রাজনীতি না করলে জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের ৪০ লাখ পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড এবং ৪০ লাখ কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ের ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলো আগামী পাঁচ বছরে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, বিএনপি সব সময় জনগণের জন্য রাজনীতি করে। জনগণের কল্যাণে তৈরি করা বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলে সমালোচনা করে বা ‘চানাচুরের বাজেট’ বলে আখ্যা দেয়, তাদের বক্তব্য থেকেই বোঝা যায় তারা জনগণের জন্য রাজনীতি করে না। বিরোধী দল কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে না। মুখে মুখে বলতো তারা একসাথে নাই কিন্তু ভিতরে ভিতরে তারা একসাথে ছিল। যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করে তারা সংসদের ভিতরে হোক কিংবা বাহিরে হোক তাদের ব্যাপারে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়া সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়াতেই বিএনপি বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিও সেই উদ্যোগের অংশ।
তিনি দাবি করেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহারের মতো উদ্যোগ সাধারণ মানুষের স্বার্থেই নেওয়া হয়েছে।
দেশে অর্থ পাচার বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে যেভাবে জনগণের অর্থ দেশ থেকে পাচার হয়েছে, তা আর হতে দেওয়া হবে না। সেই অর্থ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজে লাগানো হবে।এছাড়া আমরা দেখেছি কীভাবে জনগণের অর্থ বিগত এক যুগ ধরে, ১৭ বছর ধরে এই দেশ থেকে পাচার হয়ে গেছে। জনগণের অর্থ জনগণকে না দিয়ে একটি দল বিদেশে পাচার করে দিয়েছিল। এই জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না আমরা।
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির অর্থায়ন নিয়ে সমালোচনার জবাবে তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় ও পাচার বন্ধ করা গেলে এসব কর্মসূচি পরিচালনায় অর্থের কোনো সংকট হবে না। তিনি আরও বলেন, চা শ্রমিকদের গৃহনির্মাণ অনুদান, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসা সহায়তার মতো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ অতীতে কোনো সরকার নেয়নি।
চলতি বাজেটকে ‘গণবিরোধী’ আখ্যা দেওয়ার সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, যে বাজেটে মায়েদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ এবং ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে, সেই বাজেটকে যারা জনবিরোধী বলছেন, তারা কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারেন না।
দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি হলে সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে উল্লেখ করে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষায়, জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কেউ ধ্বংস করতে পারবে না।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য ও দলীয় নেতারা।
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

