Logo

সারাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, এক চোখ হারালেন আইনজীবী

Icon

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ১৬:০২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, এক চোখ হারালেন আইনজীবী

ছবি: সংগৃহীত

বাইরে থেকে ছোড়া পাথরের আঘাতে তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আয়কর আইনজীবী শ্যামল চন্দ্র দাসের ডান চোখ সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাটি নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিলে বিষয়টি জানাজানি হয়। গত সোমবার রাত দেড়টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তালশহর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

শ্যামল চন্দ্র দাস (৪৬) জেলা শহরের কান্দিপাড়ার রঘুনাথজিওর আখড়া সার্বজনীন মন্দিরসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আয়কর আইনজীবী সমিতির সদস্য।

আহত ব্যক্তির পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার জেলা আয়কর আইনজীবী সমিতির সভাপতি মানছুরুল হকের সঙ্গে জরুরি কাজে ঢাকায় যান শ্যামল চন্দ্র দাস। একই দিন রাত সোয়া ১১টার দিকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনের ‘ন’ বগিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। ওই বগির জানালার পাশের ৩৩ নম্বর আসনে বসেছিলেন জেলা আয়কর আইনজীবী সমিতির সভাপতি মানছুরুল হক। তার পাশের ৩৪ নম্বর আসনে ছিলেন শ্যামল। রাত দেড়টার দিকে ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর এলাকায় পৌঁছালে অন্ধকার থেকে দুর্বৃত্তরা চলন্ত ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে। বাইরে থেকে ছোড়া একটি পাথর শ্যামলের ডান চোখে আঘাত করে। এতে তার চোখ দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে।

ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনে যাত্রাবিরতি দিলে স্থানীয় লোকজন শ্যামল চন্দ্র দাসকে উদ্ধার করে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। স্বজনেরা তাকে সেখানে নিয়ে যান। মঙ্গলবার তার ডান চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়। তবে চোখটি সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে বলে পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন।

এদিকে বুধবার দুপুর থেকে স্থানীয় লোকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে পোস্ট দিতে শুরু করলে বিষয়টি জানাজানি হয়। আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া রেলপথে প্রায়ই ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন।

আহত ব্যক্তির ভাতিজা তনয় চন্দ্র দাস বলেন, আমার চাচার ডান চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। সৌন্দর্যের কথা বিবেচনা করে চোখটি রাখা হলেও তাতে আর দৃষ্টিশক্তি ফিরবে না বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন। আজ সকালে চিকিৎসক ছাড়পত্র দেওয়ায় চাচা এখন ঢাকায় এক আত্মীয়ের বাসায় আছেন।

শ্যামল চন্দ্র দাস বলেন, ‘চিকিৎসক জানিয়েছেন, ডান চোখে আর দৃষ্টিশক্তি ফিরবে না। ডান চোখটি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগামী রোববার আবার হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসককে চোখ দেখাতে হবে। আমি এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেব। যারা চলন্ত ট্রেনে পাথর ছোড়ে, তাদের ক্রসফায়ারে গুলি করে মেরে ফেলা উচিত।’

জেলা নাগরিক ফোরামের সহ-সভাপতি নীহার রঞ্জন সরকার বলেন, একের পর এক ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায়, রেলযাত্রীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর উচিত ঘটনাটিকে গুরুত্ব সহকারে আমলে নিয়ে দুর্বৃত্তদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আয়কর আইনজীবী সমিতির সভাপতি মানছুরুল হক বলেন, ‘চলন্ত ট্রেনে পাথর ছোড়া একটি বড় ধরনের অপরাধ। দুর্বৃত্তের ছোড়া পাথরে শ্যামলের একটি চোখের চিরস্থায়ী ক্ষতি হয়ে গেল। শ্যামলের আর্থিক অবস্থা বেশি ভালো নয়। আমরা এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহ আলম বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার বিষয়ে তথ্য পেয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন