Logo

সারাদেশ

মাগুরায় লোডশেডিংয়ে নাজেহাল এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

Icon

মাগুরা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০০:১২

মাগুরায় লোডশেডিংয়ে নাজেহাল এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

প্রতীকী ছবি

দিনে ১৫-১৬ ঘণ্টার ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে  বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মাগুরার জনজীবন। বিশেষ করে বিপাকে পড়েছেন আগামী ২ জুলাই শুরু হতে যাওয়া এইসএসসি পরীক্ষার্থীরা। এ ছাড়া সাধারণ শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, শিশু ও বয়স্কসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষও হয়ে পড়ছেন ।

আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি আষাঢ় মাসে বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্য বা আর্দ্রতা বেশি রয়েছে। সেই তুলনায় বাতাসের গতিবেগ অনেকটাই  কম। বর্ষাকালে টানা বৃষ্টি না হলে মাটি থেকে আর্দ্রতা বাষ্পীভূত হয়ে বাতাসে মিশে যায়, যা তাপমাত্রা খুব বেশি না থাকলেও অস্বস্তিকর ও স্যাঁতস্যাঁতে গরম তৈরি করেছে।

চলতি আষাঢ় মাসে বর্ষা কম হওয়ায় গত এক সপ্তাহে জেলায় সর্বোচ্চ ৩৫থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা চলছে।  বাতাসের আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। এমন তাপপ্রবাহ আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

এ অবস্থায় প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। মোহাম্মদপুর উপজেলার নহাটা গ্রামের এইচএসসি পরীক্ষার্থী তানিয়া খাতুন বলেন, ‘দিন ও রাতের অধিকাংশ সময়ে বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে পড়াশোনা ও ঘুম কোনোটাই হচ্ছে না। ফলে পরীক্ষার পূর্ণ প্রস্তুতিতে চরম ব্যাঘাত ঘটছে। সুস্থভাবে পরীক্ষা দেওয়া  নিয়ে রীতিমতো আতঙ্কের মধ্যে আছি।’

জেলার শ্রীপুর উপজেলার লাঙ্গলবাধ গ্রামের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সজীব বলেন, দিন-রাতে অন্ততপক্ষে ১২ বার লোডশেডিং হচ্ছে। প্রতিবারে এক দেড় ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। ভ্যাপসা গরমে রীতিমতো ডিহাইড্রেশন হয়ে যাচ্ছে। লেখাপড়ায় মনোযোগ দিতে পারছি না। অথচ ২ জুলাই থেকে এইচএসসি পরীক্ষা। আমাদের কথা কে ভাবে? অন্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের অবস্থাও একই রকম। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলার বেশ কয়েকজন কলেজ শিক্ষক বলেন, পরীক্ষা চলাকালীন যদি এভাবে লোডশেডিং হয় তাহলে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা নেওয়া রীতিমতো অসম্ভব হয়ে পড়বে। এক একটি রুমে কমপক্ষে ৩০-৪০ জন ছেলে-মেয়ে বসতে হয়। সে ক্ষেত্রে  রুমের ভেতরে ফ্যান না চললে সেখানকার অবস্থা কেমন হবে সহজেই অনুমান করা যায়। 

এদিকে বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, খামারি ও কৃষকেরাও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। অতিরিক্ত গরমে  অনেক মুরগি মারা যাচ্ছে। কছুন্দি গ্রামের পোল্ট্রি ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম বলেন, দিনে ১৬ থেকে ১৭ ঘণ্টার লোডশেডিংয়ে খামারের মুরগি টিকিয়ে রাখা যাচ্ছে না। এতে লোকসানে পড়বেন তারা।

এ বিষয়ে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. মহিতুল ইসলাম  বলেন, মাগুরা জেলার দুই লাখ ৭০ হাজার গ্রাহকের জন্য প্রতিদিন গড়ে ৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে সেখানে পাওয়া যাচ্ছে ৬০-৭০ শতাংশ। ফলে পর্যায়ক্রমে দুই ঘণ্টা পর এক ঘণ্টা লোডশেডিং করা হচ্ছে। তবে মাঝেমধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে লোডশেডিং করার ফলে এই হিসাবে গরমিল হয়ে যাচ্ছে। শনিবার ঢাকা থেকেই ছয় বার এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং করা হয়েছে বলে জানান তিনি। 

অন্যদিকে মাগুরা শহর তথা পিডিবির আওতায়ও ব্যাপক লোডশেডিং দেখা যাচ্ছে। জেলা শহরেও প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ থেকে ১২ বার লোডশেডিং হচ্ছে। ফলে জনজীবনে দেখা দিয়েছে বিপর্যয়। পিডিবি মাগুরার আবাসিক প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা গেছে প্রতিদিন ১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের বিপরীতে তারা পাচ্ছেন মাত্র ৯ থেকে ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই লোডশেডিং করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। 

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন