স্টেডিয়াম যেন চলার সড়ক-ময়লার ভাগাড়
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ২০:১৩
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় তরুণ সমাজ ও ক্রীড়ামোদিদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে নির্মিত ‘মির্জাপুর মিনি স্টেডিয়ামটি’ এখন চরম অবহেলা ও অযত্মে পড়ে রয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, চারপাশের নোংরা পরিবেশ এবং মাঠের ভেতরে ব্যক্তিগত কাজের মালামাল রাখায় স্টেডিয়ামটি এখন প্রায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে ব্যাহত হ”েছ ¯’ানীয় ক্রীড়া চর্চা, ক্ষোভ বাড়ছে খেলোয়াড় ও ক্রীড়াপ্রেমীদের মাঝে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্টেডিয়ামের প্রধান ভবন ও শৌচাগারটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় চারপাশে জঙ্গল ও আগাছা জমে গেছে। শৌচাগারগুলো ব্যবহারের সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে পড়েছে, যা খেলোয়াড়দের জন্য একটি বড় ভোগান্তির কারণ। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, স্টেডিয়ামের পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণ পাশটিকে স্থানীয়রা যত্রতত্র ময়লা- আবর্জনা ফেলার ডাম্পিং স্টেশন বানিয়ে ফেলেছেন। বাতাসে সেই আবর্জনার দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে পুরো মাঠজুড়ে। এছাড়া মাঠের
দক্ষিণ-পশ্চিম কোণটি ও পুরাতন জরাজীর্ণ ক্রীড়া সং¯’ার ভবন ঘেঁষে মাঠের উত্তরাংশ এখন সর্বসাধারণের উন্মুক্ত মূত্র বিসর্জনের স্থানে পরিণত হয়েছে। তীব্র দুর্গন্ধের কারণে মাঠে সাধারণ মানুষের পক্ষে দাঁড়িয়ে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে। শুধু তাই নয়, স্টেডিয়ামের পবিত্রতা ও নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে মাঠটিকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ব্যক্তিগত কাজে। মাঠের ভেতরেই যত্রতত্র ফেলে রাখা হয়েছে ইট, বালু ও খোয়া। রাজনৈতিক বা সামাজিক কোনো অনুষ্ঠান ছাড়াই মাঠের বুক চিরে অবাধে চলছে যানবাহন, যেন এটি খেলাধুলার মাঠ নয়, বরং চলাচলের সাধারণ কোনো রাস্তা।
ক্রিকেট খেলোয়াড় রনি সিকদার বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে মাঠে খেলাধুলা করি। কিš‘ সময়ের ব্যবধানে মাঠের বেহাল দশা বাড়ছেই। তবে, এসব যেন দেখার কেউ নেই। আমরা চাই দ্রুত মাঠটিকে সংস্কার করে খেলার উপযোগী করে তোলা হোক। আরিফ নামের আরেক ফুটবল খেলোয়াড় বলেন, এখানকার মানুষ মাঠটিকে নিজেদের কাজে ব্যবহার করছে, কেউ ইট বালু রাখছে, কেউবা মোটরসাইকেল চালানো শিখছে।
আর সর্বক্ষণ মাঠের উপর দিয়ে মানুষের চলাচল আছেই। যেটি খেলাধুলার সময় বাঁধার সৃষ্টি করে। আমরা দ্রুত এসবের সমাধান চাই। উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ডি.এম. শফিকুল ইসলাম ফরিদ বলেন, আমরা মাঠটি ঠিক করতে খুব চেষ্টা করছি। কিন্তু সাধারণ মানুষ সেগুলো অনুধাবন করতে পারেনা। ইতোমধ্যে আমরা কিছু কাজ শুরু করেছি। আশা করছি অল্প কিছু দিনের মধ্যে মাঠটি আরও সুন্দর করা
সম্ভব হবে। মির্জাপুর পৌরসভার প্রশাসক তারেক আজিজ বলেন, ইতোমধ্যে স্টেডিয়ামের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ক্রীড়া সংস্থার অন্যদের সঙ্গেও এ নিয়ে পরামর্শ করা হয়েছে। স্টেডিয়ামকে অন্যতম একটি ক্রীড়া উপযোগী হিসেবে তৈরি করতে আমরা স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে নতুন অর্থবছরেই চিঠি পাঠাবো এবং পুরো মাঠ নিয়ে আমরা কাজ করতে চাই। আশা করি পৌর এবং উপজেলা প্রশাসন মিলে মির্জাপুরবাসীকে অনেক বড় একটি স্টেডিয়াম উপহার দিতে পারবো।
বিকে/মান্নান

