Logo

সারাদেশ

তিস্তার চরে ঘরে ঘরে বাদাম বিপাকে নিচু এলাকার চাষিরা

Icon

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ২০:২৭

তিস্তার চরে ঘরে ঘরে বাদাম  বিপাকে নিচু এলাকার চাষিরা

কুড়িগ্রামের উলিপুরে তিস্তার বিস্তীর্ণ চরজুড়ে এখন বাদাম তোলার মৌসুম। কোথাও মাঠ থেকে বাদাম তোলা, কোথাও শুকানো, আবার কোথাও বাজারে পাঠানোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত কৃষক পরিবার। তবে এই ব্যস্ততার মধ্যেও অনেকের মুখে নেই স্বস্তির হাসি। মৌসুমের শেষ দিকে টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে নিচু জমির বাদামখেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন শতাধিক কৃষক। অনেকে বাধ্য হয়ে অপরিপক্ব বাদাম তুলে লোকসান গুনছেন।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমের শুরুতে ফলনের আশা ছিল বেশ ভালো। বিশেষ করে গত বছরের বন্যার পর নদীবাহিত পলি জমে চরাঞ্চলের অনেক জমির উর্বরতা বেড়ে যাওয়ায় বাদাম চাষে আশাবাদী ছিলেন তারা। কিন্তু শেষ মুহূর্তের বৈরী আবহাওয়া সেই প্রত্যাশায় বড় ধাক্কা দিয়েছে।

সরেজমিনে তিস্তার চরাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, উঁচু জমির বাদামখেতে ফলন সন্তোষজনক হলেও নিচু এলাকার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। টানা বৃষ্টিতে জমে থাকা পানিতে অনেক ক্ষেতের বাদাম পচে গেছে। কোথাও আবার বাদামের দানা পূর্ণতা পাওয়ার আগেই কৃষকদের ফসল তুলে ফেলতে হয়েছে। ফলে উৎপাদন খরচের বড় অংশই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

গোড়াইপিয়ার চরের কৃষক কোব্বাস আলী জানান, ৪০ শতক জমিতে বাদাম চাষ করেছিলেন তিনি। টানা বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে অধিকাংশ বাদাম নষ্ট হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে আগেভাগেই ফসল তুলতে হয়েছে। মাঠ থেকে বাড়ি পর্যন্ত বাদাম তুলতে প্রায় ১৫ হাজার টাকা ব্যয় হলেও উৎপাদন হয়েছে মাত্র পাঁচ মণ। বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করে সেই খরচের অল্প অংশই উঠবে। ঋণ শোধ ও সংসার চালানো নিয়ে এখন তিনি চরম অনিশ্চয়তায়।

একই দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন চাঁদ মিয়া, মঞ্জু মিয়া, কাশেম আলী, রবিয়ালসহ চরাঞ্চলের আরও অনেক কৃষক। তাদের দাবি, তিস্তার চরাঞ্চলের মানুষের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল বাদাম। কিন্তু বন্যা, আকস্মিক বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া প্রায়ই তাদের স্বপ্ন ভেঙে দেয়। ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে তারা দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানান।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ৩৬৫ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আবাদ হয়েছে ৩৬৮ হেক্টরে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৭৫ মেট্রিক টন। তবে সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে চরাঞ্চলের নিচু এলাকার কিছু জমিতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ মোশারফ হোসেন বলেন, উঁচু চরাঞ্চলের অধিকাংশ জমিতে বাদামের ফলন ভালো হয়েছে। তবে নিচু এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে কিছু ক্ষতি হয়েছে। বাজারদর অনুকূলে থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা বাদ দিলে অন্য কৃষকেরা ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিকে/মান্নান

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন