ভোগান্তি নেই ঝিনাইদহের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ২০:৫৪
ঝিনাইদহ সদরসহ মহেশপুর, কোটচাঁদপুর, কালীগঞ্জ, শৈলকুপা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কোনো রকম ভোগান্তি বা অতিরিক্ত অর্থ ছাড়াই সাধারণ মানুষ এখন সহজে ও স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের জমির দলিল রেজিস্ট্রি করতে পারছেন।
রেজিস্ট্রি অফিসগুলোর দাপ্তরিক সূত্রে জানা গেছে, জমির দলিল সম্পাদনের ক্ষেত্রে প্রায়ই ক্রেতা-বিক্রেতাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের নামের বানান ভুল, শরিকানা জমির বণ্টননামার ঘাটতি কিংবা ওয়ারেশ সনদের জটিলতা দেখা দেয়। ভবিষ্যতের আইনি বিরোধ এড়াতে সাব-রেজিস্ট্রার ও প্রধান অফিস সহকারীসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এই কারিগরি ত্রুটিগুলো আইন অনুযায়ী খতিয়ে দেখেন। বিধি মোতাবেক এই যাচাই প্রক্রিয়ার কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিছুটা সময় লাগলেও, তা নিয়মের ভেতরেই সম্পন্ন করা হচ্ছে। এছাড়া বর্তমানে প্রতিটি অফিসে সরকারি নির্ধারিত ফি-র তালিকা দৃশ্যমান রাখা হয়েছে এবং চালানের টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে জমা নেওয়া হচ্ছে। মুসলিম পারিবারিক আইনের ‘হেবা’ দলিল কিংবা সাধারণ সাফ কবলা দলিলের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত শতকরা হারের (৬ থেকে ৮ শতাংশ) নিয়মটি বজায় রাখতে দলিল লেখক সমিতির সাথে দাপ্তরিক সমন্বয় রাখা হচ্ছে। এছাড়া উপজেলা রেজিস্ট্রার অফিসগুলোতে সেবাগ্রহীতারা যাতে সরাসরি কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন, সেই সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা সাধারণ মানুষদের কোনো ধরনের হয়রানি বা ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে না। তারা সরাসরি এজলাসে গিয়ে কোনো অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই দলিল রেজিস্ট্রি করতে পারছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়গুলোতে দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের কোনো দৌরাত্ম্য নেই। সেবাগ্রহীতারা সরাসরি দপ্তরে এসে নিজেদের কাজ নিজেরাই করছেন। অফিসের প্রধান সহকারীসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরাসরি গ্রাহকদের ফাইল দেখে নিয়মতান্ত্রিকভাবে কাজ করতে দেখা গেছে। অফিসগুলোতে সুশৃঙ্খল পরিবেশে দলিল নিবন্ধনের কাজ চলছে। অফিসের দেওয়ালে টানানো রয়েছে সরকার নির্ধারিত ফি-র তালিকা, যা দেখে সাধারণ মানুষ ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা জমা দিয়ে সহজেই সেবা নিচ্ছেন।
হরিণাকুণ্ডুর আদর্শ আন্দুলিয়া গ্রাম থেকে আসা জমি ক্রেতা আব্দুল ওয়াহাব বলেন, ‘আমি সরাসরি অফিসে এসে সরকারি নির্দিষ্ট ফি দিয়েই কোনো ঝামেলা ছাড়া দলিল রেজিস্ট্রি করতে পেরেছি। আমার কোনো অতিরিক্ত টাকা লাগেনি।’
সদর অফিসে ‘হেবা’ (দান) দলিল করতে আসা লিয়াকত আলী বলেন, ‘রক্তের সম্পর্কের মধ্যে হেবা দলিলে সরকার নির্ধারিত খরচ মাত্র এক হাজার টাকা। অফিসে আসার পর কর্মকর্তারা কোনো রকম হয়রানি ছাড়াই নিয়ম মেনে আমার কাজটা দ্রুত করে দিয়েছেন। এখানে কোনো অনিয়ম দেখিনি।’
শৈলকুপা অফিসে আসা বৃদ্ধা আছিরন নেছা বলেন, ‘আমি অসুস্থ ভ্যানে শুয়ে অফিসের বাইরে ছিলাম। সাব-রেজিস্ট্রার নিজে আমার কাছে এসে সব কাগজপত্র দেখে দলিলে আমার সই-স্বাক্ষর নিয়েছেন। কোনো বাড়তি টাকা লাগেনি, ওনারা খুব আন্তরিকভাবে কাজটা করে দিয়েছেন।’
ঝিনাইদহ জেলা রেজিস্ট্রার সাব্বির আহমেদ জানান, ‘জমির মালিকানার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে আইনি বিধিমালা শতভাগ অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। কারিগরি বা কাগজের কোনো ত্রুটি থাকলে তা নিয়মতান্ত্রিকভাবেই সংশোধন করতে হয়। আমরা চেষ্টা করছি গ্রাহকেরা যেন নিয়মের মধ্যে থেকে সঠিক আইনি সেবাটি পান।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অফিসগুলোতে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা ভোগান্তির সুযোগ নেই। সাধারণ মানুষ সরাসরি এসে নিয়ম মেনে সেবা নিচ্ছেন এবং আমরা নিয়মিত এটি তদারকি করছি।’
বিকে/মান্নান

