Logo

সারাদেশ

দৌলতদিয়ায় পদ্মার ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান চান স্থানীয়রা

Icon

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:১২

দৌলতদিয়ায় পদ্মার ভাঙন রোধে   স্থায়ী সমাধান চান স্থানীয়রা


রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার প্রমত্তা পদ্মা নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান চান স্থানীয়রা। গত ২৯ বছরে নদী ভাঙনের কবলে পড়ে ২৪টি গ্রাম পদ্মা নদীতে হারিয়ে গেছে। তারা আশায় থাকতে চান না। শনিবার সরজমিনে দৌলতদিয়া চার নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় দেখা যায়, ছোট্ট ছোট করে আবার ভাঙন শুরু হয়েছে।

এসময় রহিমা বেগম নামে স্থানীয় এক নারী বলেন, আমাদের ডান ও বাম পাশে কয়েক ট্রলার জিওব্যাগ ফেলানো হয়েছে। কিন্তু আমাদের এখানে ফেলানো হয়নি। অল্প কিছু ব্যাগ ফেলেই বলে দশ-বিশ হাজার ব্যাগ ফেলানো হয়েছে। প্রতি বছর পানি আসলেই আমাদের সাথে লোক দেখানো এগুলো করা হয়। শুষ্ক মৌসুমে এ ব্যাগ গুলো ফেললে যে কোন একটা এলাকা রক্ষা পেতো, কিন্তু পানির মধ্যে ব্যাগ আমাদের সাথে তামাশা করা হয়।

স্থানীয় ছমির সরদার বলেন, মোট চার বার ভাঙনের স্বীকার হয়েছি, আর কিছুই নাই। যখন যে আসে শুধু আশ্বাস দেয়, কিন্তু কোন ফল হয় না। গত ১৫-২০ বছরে যতো ব্যাগ ফেলানো হয়েছে, সরকারি খাতায় তা হিসাব করলে এ এলাকায় বাঁধ তৈরি হয়ে যেতো। যখন যারা ক্ষমতায় আসে তারাই আমাদের আশায় রাখে। আমরা স্থায়ী সমাধান চাই।

দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ২১টি মৌজার মধ্যে অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র চারটি। এ ছাড়া ভাঙনের কবলে পড়ে বিলীন হয়েছে দৌলতদিয়া ঘাটের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ফেরিঘাট। আস্তে আস্তে ছোট্ট হয়ে আসছে এ ইউনিয়ন, সাথে সাথে বাড়ছে নদী ভাঙনে নিঃস্ব ও অসহায় পরিবারের সংখ্যা।

বর্তমানে উজান থেকে নেমে আসা পানিতে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি, উজানের ঢল এবং টানা বৃষ্টির প্রভাবে উপজেলার দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। প্রতিদিনই একটু একটু করে নদী গিলে খাচ্ছে মানুষের স্বপ্ন, স্মৃতি আর জীবনজীবিকা। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয়, ব্যবসা

প্রতিষ্ঠান, শত শত বসতবাড়ি, সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা। প্রতিদিন

ভাঙনের শব্দ শুনে ঘুম ভাঙে মানুষের। কখন নিজের ঘরটুকুও নদীতে মিলিয়ে যাবে এ আতঙ্ক নিয়েই দিন কাটছে হাজারো পরিবারের। ভাঙনের কারণে বহু আগেই বন্ধ হয়ে গেছে দৌলতদিয়া ১ ও ২ নম্বর ফেরিঘাট। তবুও স্থায়ী নদীশাসনের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় প্রতি বর্ষায় একই আতঙ্ক ফিরে আসে। তাদের অভিযোগ, নির্বাচন এলেই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় কিন্তু কেউ বাস্তবায়ন করে না।

নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তাজমিনুর রহমান বলেন, রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন

বোর্ডের কোন স্থায়ী প্রকল্প নেই, তাই জরুরি প্রকল্পে কাজ চলছে। রাজবাড়ী সদর ও গোয়ালন্দ উপজেলায় জরিপ অনুযায়ী প্রায় ১৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে দৌলতদিয়ার প্রায় ৬০০ মিটার এলাকা অতিঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেখানে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ

ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ২০০ মিটার এলাকায় কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং অনুমোদন সাপেক্ষে বাকি অংশেও দ্রুত কাজ শুরু হবে। তিনি বলেন, দেবগ্রামে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ

হলেও সেখানে বসতবাড়ি কম থাকায় আপাতত দৌলতদিয়ার জনবসতিপূর্ণ

এলাকাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তবে পদ্মাপাড়ের মানুষের দাবি একটাই, তারা আর সাময়িক ত্রাণ, স্লিপ কিংবা আশ্বাস চান না। তারা চান একটি স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প, যাতে বছরের পর বছর ধরে ঘরবাড়ি হারানোর ভয় নিয়ে বেঁচে থাকতে না হয়।



বিকে/মান্নান

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন