Logo

সারাদেশ

কাঁচা মরিচের দামে ডাবল সেঞ্চুরি বিপাকে সাধারণ ক্রেতারা

Icon

বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ২০:৫২

কাঁচা মরিচের দামে ডাবল সেঞ্চুরি   বিপাকে সাধারণ ক্রেতারা



 এক সময় বাজারে গিয়ে এক কেজি কাঁচা মরিচ কিনতে যে টাকা লাগত, এখন সেই টাকায় মিলছে মাত্র ‘কয়েকশ’ গ্রাম। রান্নাঘরের অপরিহার্য এই উপকরণটির দাম যেন হঠাৎ করেই ছুঁয়েছে আকাশ। দিনাজপুরের বীরগঞ্জে বর্তমানে কাঁচা মরিচের দাম ‘ডাবল সেঞ্চুরি’ পেরিয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের বাজার তালিকায় এখন সবচেয়ে আলোচিত নাম কাঁচা মরিচ।

মঙ্গলবার সকালে বীরগঞ্জ পৌরশহরের কাঁচামাল আড়ত ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারজুড়ে একটাই আলোচনা মরিচের ঝাল নয়, ঝাল এখন দামে। ক্রেতারা হাতে ছোট ছোট পলিথিন নিয়ে মরিচ কিনছেন ৫০, ১০০ কিংবা ২০০ গ্রামের হিসাব করে। বিক্রেতাদের সামনেও ভিড় থাকলেও অধিকাংশ ক্রেতা দাম শুনে বিস্ময় প্রকাশ করছেন।

বর্তমানে বীরগঞ্জের আড়তগুলোতে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২৬০-২৮০ টাকায়। সেই মরিচ খুচরা বাজারে পৌঁছাতে পৌঁছাতে দাম দাঁড়াচ্ছে ৩০০-৩২০ টাকা কেজি। কয়েক সপ্তাহ আগেও যে পণ্যটি অনেক কম দামে পাওয়া যেত, সেটিই এখন মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য একপ্রকার বিলাসী পণ্যে পরিণত হয়েছে।

বাজারের ব্যস্ততম কাঁচামাল আড়তদারদের একজন আরিফুজ্জামান জীবন। সকাল থেকেই তার আড়তে চলছে মরিচ কেনাবেচার ব্যস্ততা। দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাঁচা মরিচের বাজার পুরোপুরি সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন উৎপাদন এলাকায় অতিবৃষ্টি ও আবহাওয়াজনিত কারণে ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে। ফলে পর্যাপ্ত পরিমাণ মরিচ বাজারে আসছে না। চাহিদা ঠিক থাকলেও সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়ে গেছে। আমরা নিজেরাও বেশি দামে কিনে আনছি, তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

আড়তের আরেক ব্যবসায়ী মো. আব্দুল মালেক জানান, গত কয়েকদিন ধরে বাজারে মরিচের দাম প্রায় প্রতিদিনই পরিবর্তন হচ্ছে। একদিন যে দামে কিনছি, পরদিন তার চেয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের ওপরও চাপ রয়েছে। বাজারে সরবরাহ বাড়লে দাম কমতে পারে।

খুচরা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বিক্রেতারা ছোট ছোট ওজনে মরিচ বিক্রিতে বেশি ব্যস্ত। কেজি হিসেবে দাম শুনে অনেকেই কম পরিমাণ কিনছেন।

খুচরা ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, আগে মানুষ এক কেজি বা আধা কেজি মরিচ কিনত। এখন বেশিরভাগ ক্রেতাই ৫০ বা ১০০ টাকার মরিচ নিচ্ছেন। দাম বাড়ার কারণে বিক্রির ধরনও বদলে গেছে।

আরেক বিক্রেতা মিজানুর রহমান বলেন, আড়ত থেকে ২৬০-২৮০ টাকায় মরিচ কিনে আনি। পরিবহন খরচ ও নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি মিলিয়ে ৩০০ টাকার নিচে বিক্রি করা সম্ভব নয়। ক্রেতারা অসন্তুষ্ট হলেও আমাদের কিছু করার নেই।

বাজারের পুরোনো ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম মনে করেন, কৃষিপণ্য হওয়ায় কাঁচা মরিচের বাজার সবসময়ই আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, সরবরাহ স্বাভাবিক হলেই দাম কমে আসবে। তবে এখন বাজারে মরিচের যে সংকট, তাতে দ্রুত দাম কমার সম্ভাবনা খুব বেশি দেখা যাচ্ছে না।

দামের এই ঊর্ধ্বগতির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের ওপর। পৌরশহরের বাসিন্দা রাশেদুন নবী বাবু বাজারে এসে কেজি দরের কথা শুনে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, কাঁচা মরিচ ছাড়া বাঙালির রান্না কল্পনা করা যায় না। কিন্তু এখন যে দাম, তাতে প্রয়োজনমতো কেনা যাচ্ছে না। পরিবারের খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

গৃহিণী রহিমা বেগম বলেন, ডাল, তেল, পেঁয়াজ সবকিছুর দাম আগেই বেড়েছে। এখন মরিচও ৩০০ টাকার ওপরে। সংসারের বাজেট ঠিক রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

রিকশাচালক আব্দুল মতিন বলেন, প্রতিদিন আয় যা করি, তার বড় অংশই বাজারে চলে যায়। আগে ২০-৩০ টাকার মরিচ কিনতাম, এখন সেই টাকায় খুব সামান্য পাওয়া যায়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না থাকলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। উৎপাদন এলাকায় আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং মৌসুমি সংকট মিলিয়ে কাঁচা মরিচের বাজারে এই অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

বিকে/মান্নান

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন