সরকারের খাল পুন:খনন কর্মসূচিতে ফেনীতে ৭টি খালের কাজ শেষে ফেরত গিয়েছে ৭ কোটি ৮১লাখ ৫১ হাজার ৩শ ৪৩ টাকা। প্রকল্পের উদ্ধৃত্ত এসব টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক সূত্র জানায়, জেলার ৭টি খাল পুন:খনন কর্মসূচিতে বরাদ্দ ছিলো ১২ কোটি ২৭ লাখ ৫ হাজার ৪শ ৭৮ টাকা। এরমধ্যে সোনাগাজী উপজেলার ডাংগি খালের ৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটারের জন্য ৫ কোটি ৬৬ লাখ ৫০ হাজার ৯শ ৪৫ টাকা, ফুলগাজী উপজেলার তারালিয়া ও নোয়াপুরের গতিয়া খালের ২ কিলোমিটারের জন্য ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯শ ৯৫ টাকা, পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ ভেদা খালের ৩ কিলোমিটারের জন্য ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৮শ ৪২ টাকা, ফেনী সদর উপজেলার মোহাম্মদ আলী খালের ৫ দশমিক ৭শ ২৫ কিলোমিটারের জন্য ১ কোটি ৪৬ লাখ ৮০ হাজার ৯শ ৩১ টাকা, দাউদপুর মধুয়াই খালের ৫ দশমিক ৫ কিলোমিটারের জন্য ২ কোটি ৫৭ লাখ ৫২ হাজার ৭শ ৭৫ টাজা এবং দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুরের জয়নারায়ণপুর থেকে বিরলী খালের ১কিলোমিটারের জন্য ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯শ ৯৫ টাকা ও জয়লস্করের সিলোনিয়া বাজার হতে নেওয়াজপুর খাল পর্যন্ত ২ কিলোমিটারের জন্য ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯শ ৯৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।
এসব খালের কাজে ব্যয় হয়েছে ৪ কোটি ২১লাখ ২৪হাজার ১শ ৩৫টাকা। এরমধ্যে সোনাগাজী উপজেলার ডাংগি খালের ৫ কিলোমিটারের জন্য ৭৬লাখ ৩০হাজার ৬শ ২১ টাকা, ফুলগাজী উপজেলার তারালিয়া ও নোয়াপুরের গতিয়া খালের ২ কিলোমিটারের জন্য ৩৫লাখ ১২ হাজার ৭শ ৫৪টাকা, পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ ভেদা খালের ২ দশমিক ৬ কিলোমিটারের জন্য ৩১লাখ ১৯হাজার ৭শ ৮২টাকা, ফেনী সদর উপজেলার মোহাম্মদ আলী খালের ৫দশমিক ৭শ ২৫কিলোমিটারের জন্য ৮৫লাখ ৪৫ হাজার ৪শ ৭০টাকা, দাউদপুর মধুয়াই খালের ৫ দশমিক ৫কিলোমিটার এর জন্য ১কোটি ৫১লাখ ২৮হাজার ১শ ৬৫টাকা এবং দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুরের জয়নারায়ণপুর থেকে বিরলী খালের ১কিলোমিটারের জন্য ১৫লাখ ৯৫হাজার ৪শ ৭৪ টাকা ও জায়লস্করের সিলোনিয়া বাজার হতে নোয়াজপুর খাল পর্যন্ত ২ কিলোমিটারের জন্য ২৫লাখ ৯১হাজার ৮শ ৬৯টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক সূত্র আরো জানায়, ৭খাল পুন:খনন শেষে উদ্ধৃত্ত ছিলো ৭ কোটি ৮১ লাখ ৫১ হাজার ৩শ ৪৩ টাকা। এরমধ্যে সোনাগাজী উপজেলার ডাংগি খালে উদ্ধৃত্ত ৪কোটি ৯০লাখ ২০হাজার ৩শ ২৪ টাকা, ফুলগাজী উপজেলার তারালিয়া ও নোয়াপুরের গতিয়া খালে উদ্ধৃত্ত ১৬লাখ ৪১হাজার ২শ ৪১টাকা, পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ ভেদা খালের উদ্ধৃত্ত ৪৬লাখ ৯হাজার ৬১টাকা, ফেনী সদর উপজেলার মোহাম্মদআলী খালের উদ্ধৃত্ত ৬১লাখ ৩৫হাজার ৪শ ৬০টাকা, দাউদপুর মধুয়াই খালের উদ্বৃত্ত ১ কোটি ৬ লাখ ২৪হাজার ৬শ ১০টাকা এবং দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুরের জয়নারায়ণপুর থেকে বিরলী খালের উদ্ধৃত্ত ৩৫লাখ ৫৮হাজার ৫শ ২১টাকা ও জায়লস্কর সিলোনিয়া বাজার হতে নোয়াজপুর খালের উদ্ধৃত্ত ২৫লাখ ৬২হাজার ১শ ২৬টাকা। এসব উদ্ধৃত্ত টাকা জেলা প্রশাসক থেকে থেকে সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একদিকে বর্ষা মৌসুম অপরদিকে ধার্যকৃত দামে দিনমজুর না পাওয়ায় তাদের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা উদ্বৃত্ত থেকে যায়। দিনমজুরের কাজ এসকে স্কেভটরের মাধ্যমে করায় বিপুল অংকের টাকা সাশ্রয় হয়।
জেলা প্রশাসক মনিরা হক জানান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে তদারকি জোরদার থাকায় সরকারি অর্থের অপচয় হয়নি। প্রকল্প সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রকল্পের আশপাশের অধিবাসীগণ দীর্ঘমেয়াদী সুফল পাবেন। কৃষি উন্নয়নে এবং জলাবদ্ধতা নির্ধারনে এসব প্রকল্প মাইল ফলক হয়ে থাকবে।
বিকে/মান্নান

