যমুনার ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি-ফসলি জমি
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ২১:০৭
সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি ওঠানামার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভয়াবহ নদীভাঙন শুরু হয়েছে। জেলার সদর, কাজিপুর, চৌহালী, বেলকুচি ও শাহজাদপুর উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকায় একের পর এক বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ভাঙনের মুখে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন হাজারো মানুষ।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাজিপুর, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার চরাঞ্চল। কাজিপুর উপজেলার চরগিরিশ ইউনিয়নের চরগিরিশ ও ভেটুয়া এলাকায় গত এক মাসে দুই শতাধিক বসতবাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আল আমিন। ভাঙনের কারণে পশ্চিম চরগিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নিলামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। কালিকা প্রকাশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্থাপনাও অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঐতিহ্যবাহী চরগিরিশ বাজার নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে এবং একটি সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রও এখন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
চৌহালী উপজেলার খাষকাউলিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম জোতপাড়া এলাকায় সাম্প্রতিক ভাঙনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্তত ১০ থেকে ১২টি বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে। বাঘুটিয়া ও খাসপুখুরিয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চলেও অব্যাহত রয়েছে নদীভাঙন।
খাষকাউলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবলু বলেন, উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম নদীভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। স্থানীয় জনতা উচ্চ বিদ্যালয় রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়নের ধীতপুর, কুরসী ও শ্রীপুর এলাকায় বহু পরিবার বসতভিটা ও আবাদি জমি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
পরিস্থিতি পরিদর্শনে সম্প্রতি চৌহালীর পশ্চিম জোতপাড়া এলাকায় যান স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। নদীভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ও জিওটিউব ফেলার কাজ চলছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাজমুল হোসাইন জানান, ভাঙন প্রতিরোধে ৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং কাজ নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, জেলার অধিকাংশ ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে প্রতিরোধমূলক কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে কাজিপুরের নিশ্চিন্তপুর, বেলকুচির মুলকান্দি এবং চৌহালীর জনতা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে জোরদার কার্যক্রম চলছে।
এদিকে জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা মো. আব্দুল বাসেদ জানান, ভাঙনকবলিত কাজিপুর, চৌহালী, শাহজাদপুর, বেলকুচি ও সদর উপজেলায় ইতোমধ্যে প্রতিটি এলাকায় ৩০০ প্যাকেট করে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া জরুরি সহায়তার জন্য জেলা ত্রাণ ভাণ্ডারে ৫ লাখ টাকা, ১০০ মেট্রিক টন চাল এবং ৪৫ বান্ডিল টিন মজুদ রয়েছে।
তবে ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, সাময়িক প্রতিরোধ নয়, যমুনা তীর রক্ষায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, দ্রুত পুনর্বাসন এবং পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় নদীভাঙনে প্রতিবছরের মতো এবারও শত শত পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়বে।
বিকে/মান্নান

